কুমিল্লা সদর উপজেলার শাসনগাছা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকায় ওয়াক্ফ স্টেটের শতকোটির টাকার জমি দখল করে ওয়াক্ফ প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওয়ারিশদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের শাসনগাছা এলাকায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, কুমিল্লা রেলস্টেশন ছাড়াও ব্যস্ততম এলাকায় ১৪৮ দাগে সাড়ে ৬৬ শতাংশ এবং ১৪৯ দাগে ১৩ শতকসহ মোট প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা মক্রম আলী ও আকুব আলী নামের দুই দানবীর ওয়াক্ফ স্টেট করে দেন। ১৯৪৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারা এই জমি ওয়াক্ফ স্টেট করে দেন, যেখানে একটি দ্বিতল জামে মসজিদ ও মাদরাসা রয়েছে। বর্তমানে ওয়াক্ফ জমির মোতাওয়াল্লি পদে দায়িত্ব পালন করছেন মক্রম আলীর মেয়ের ঘরের নাতি মৃত শাহ আলমের পরিবার ও মো. লিটন। ওয়াক্ফ করা ১৪৯ দাগের ১৩ শতাংশের বেনিফিশিয়ারি আকুব আলীর ছেলে সাবেক মোতাওয়াল্লি রাজা মিয়া। তবে অভিযোগ রয়েছে, ১৪৮ দাগের সাড়ে ৬৬ শতাংশের বেনিফিশিয়ারি আনোয়ারা বেগমের সন্তান লিটন রাজা মিয়ার উত্তরাধিকারীদের না জানিয়ে গোপনে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এ সময় তারা ওয়াক্ফ এস্টেটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বর্তমানে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাবেক মোতাওয়াল্লি রাজা মিয়ার ছেলে খোকন আহমেদ আমার দেশকে জানান, ‘আমার বাবা আগে মোতাওয়াল্লি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দুই দাগের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গার মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করছেন আমার ফুফাতো ভাই প্রয়াত শাহ আলমের পরিবার এবং লিটন।’ এদিকে ওয়াক্ফকৃত জায়গার ওপর ওয়াক্ফ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণ সম্পর্কে বাংলাদেশ মোতাওয়াল্লি সমিতির কুমিল্লা শাখার সভাপতি হাজী মো. আলমগীর হোসেন জানান, ‘ওয়াক্ফ প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত কোনো সম্পত্তি কেনাবেচা বা নির্মাণ করা যাবে না।’ ওয়াক্ফ এস্টেটের কুমিল্লার পরিদর্শক (অডিট) সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘ওয়াক্ফ প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি, এমনকি বেনিফিশিয়ারি কোনো পক্ষও আমাদের এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

