আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সীমান্তে নির্বাচনি ডামাডোলে সুযোগ নিচ্ছে মাদক কারবারিরা

হাসান উল আজিজ, লালমনিরহাট

সীমান্তে নির্বাচনি ডামাডোলে সুযোগ নিচ্ছে মাদক কারবারিরা

সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত গোটা দেশ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে থেমে নেই মাদক চোরাকারবারিরা। একের পর এক মাদকের চালান ঢুকছে সীমান্ত দিয়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ইস্যুতে নানাভাবে ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সুযোগে রমরমা হয়ে উঠেছে তাদের ব্যবসা। সীমান্ত, মহাসড়ক, নদীপথ—সবখানে নজরদারির ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে মাদকের অনুপ্রবেশ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে।

উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে পাড়া-মহল্লায় হাত বাড়ালেই মিলছে সব ধরনের মাদকদ্রব্য। মরণনেশা ইয়াবায় ডুবে থাকছে জেলার উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এ তালিকায় রয়েছে উঠতি বয়সি যুবসমাজ, স্কুল-কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে করে এ জেলায় মাদকাসক্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এলাকায় উঠতি বয়সি তরুণ ইয়াবাসেবীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকমহল উৎকণ্ঠায় আছেন। লালমনিরহাটে প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করছে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি ও রংপুর ৬১ বিজিবি তিস্তা-টু এর সদস্যরা। সীমান্তের এই তিনটি সেক্টরের অধীনে থাকা কমপক্ষে অর্ধশত স্পট দিয়ে আসছে ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ, ওষুধ, থ্রি-পিস, শাড়ি-কাপড় ইত্যাদি অবৈধ পণ্য। সীমান্ত গ্রামের মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সীমান্তে বিভিন্ন এলাকা থেকে সুকৌশলে তরুণ প্রজন্ম ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, মদ, সেবন করতে ছুটে আসে। রাত হলেই গোটা সীমান্তের নোম্যানসল্যান্ড চোরাকারবারিদের দখলে চলে যায়। বিশেষ করে পাটগ্রামের জোংরা, জগৎবের, নাজির গোমানি, বুড়িমারী, সানিয়াগান, হাতীবান্ধার ভুটিমঙ্গল, বড়খাতা, গোতামারী, দৈই খাওয়া, জাওরানি, বনচৌকি, ভেলাগুড়ি, পূর্বকদমা, কালীগঞ্জের শিয়ালখাওয়া, গোড়ল, চন্দ্রপুর, চামটা, চাপারহাট, আদিতমারীর দুর্গাপুর, ভেলাবাড়ী, মোগলহাট, চওড়াটারী, সদরের কুলাঘাট, শীবেরকুটি, মোগলহাট, শালমারী, ফলিমারীর চরসহ বিভিন্ন স্পটকে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যরা। সীমান্ত এলাকার মশিউর রহমান বলেন, এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজা দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে। ভারত থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ে এসে প্রথমে সীমান্তের গ্রামগুলোতে জড়ো করা হচ্ছে। পরে সুযোগ বুঝে সেগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আবার সুযোগ বুঝে সেগুলো বিভিন্ন যানবাহনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছোট-বড় চালানসহ বহনকারীদের আটক করতে সক্ষম হলেও বড় বড় চালানসহ মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এ কারণে মাদক নির্মূল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। এ সময় যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন