কক্সবাজারের কুতুবদিয়া লেমশীখালীতে লবণ প্রদর্শনী কেন্দ্র বিসিকের ৮৫ একর লবণ মাঠ এখন গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত দুই মৌসুম খাজনা-সংক্রান্ত জটিলতা ও মন্ত্রণালয়ে মামলার দরুন পতিত পড়ে আছে উর্বর লবণ মাঠ। বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক লবণচাষিরা।
স্থানীয় বিসিক মাঠ পরিদর্শক জাকের হোছাইন জানান, লবণ উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও লবণচাষিদের প্রশিক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৮-৯৯ সাল থেকে বিসিক কাজ করছে। উন্নত প্রযুক্তি পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করে শতভাগ সফলতা এসেছে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে গত দুই মৌসুম ধরে বিসিকের ৬৮টি প্লট প্রান্তিক চাষিদের মাঝে এক-সনা লিজ দেওয়া বন্ধ আছে। এই প্লটগুলোয় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ৮৫ একর। দুই বছরে কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে বিসিকের লবণ গোডাউন পরিত্যক্ত হয়ে খোলা টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বখাটেদের অভয়াশ্রমেও পরিণত হয়েছে। অফিস ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে। ছাদ ও পিলারের রড খসে পড়ছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে জানান স্থানীয় মলম চরের লবণচাষি আকতার হোছন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজার উত্তর জোন সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল বলেন, বিসিক একরপ্রতি মাত্র ৫০০ টাকা খাজনা দিয়ে নামে-বেনামে এক-সনা উপ-ইজারা দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
সরকারি রাজস্ব একরপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে তারা দুই হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাবনা করে চিংড়ি প্রজেক্ট করার লক্ষ্যে ৯ জনের নামে দীর্ঘ মেয়াদে লিজ নিতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরো বলেন, চিংড়ি প্রজেক্ট করা হলে সরকার যেমন রাজস্ব বেশি পাবে, অপরদিকে তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে বলে মনে করেন তিনি।
বিসিক কক্সবাজার জেলা পরিদর্শক ইদ্রিস আলী বলেন, খাজনার বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ থেকে একরপ্রতি ৫০০ টাকাই বহাল রেখে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী লবণ মৌসুমে আগের নিয়মে চাষিদের মাঝে প্লট এক-সনা বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

