সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিবেশ। শুক্রবার বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচারে হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনি প্রচারে হামলার জেরে সংঘর্ষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সাতজন ও শরীয়তপুরের ডামুড্যায় দুজন আহত হয়েছেন।
আমাদের বরিশাল অফিস থেকে জানানো হয়, বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের নির্বাচনি প্রচারে দুই দফায় হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলার সরিকল বাজারে এ হামলায় অন্তত চারজন আহত হন। আহতরা হলেন—গৌরনদী পৌর সভার সাবেক প্যানেল মেয়র মো. শাহ আলম ফকির, অ্যাডভোকেট মো. শাহীন, আনিচ ফকির ও কামাল হোসেন খান। আহতদের গৌরনদী পৌর এলাকার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান অভিযোগ করেন, বরিশাল-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দীন স্বপনের সমর্থকরা তার প্রচারে হামলা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা প্রচার বহরে হামলা চালিয়ে নিজেদের দেউলিয়াপনার প্রমাণ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গৌরনদীর পিংলাকাঠী বাজারে ফুটবল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান সকাল ১০টার দিকে তার সমর্থকদের নিয়ে লিফলেট বিতরণ করে ভোট চাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের প্রচারে বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।
পরে দুপুর ১২টার দিকে আব্দুস সোবহান তার সমর্থকদের নিয়ে সরিকল বাজারে লিফলেট বিতরণকালে দ্বিতীয় দফায় তাদের নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হন।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দীন স্বপনকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম আমার দেশকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান পিংলাকাঠী ও সরিকল বাজারে গিয়ে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। তবে নির্বাচনি প্রচারে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিখ হাসান রাসেল আমার দেশকে বলেন, সরিকল বাজারে নির্বাচনি প্রচারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোবাহানের সমর্থকরা ‘তারেক জিয়ার সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’ স্লোগান দিয়ে ভোট চাচ্ছিলেন এমন অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে তাদের সঙ্গে সোবহানের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক সরিকল পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গজারিয়ায় সংঘর্ষে আহত ৭
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সোনালী মার্কেট এলাকায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের মিছিলে সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টায় গজারিয়া ইউনিয়নের সোনালী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—মামুন (৪৭), মানিক (৪২), আল আমিন (২৫), স্বপন সরকার (৫৫), বাবু (৪০) ও জয়নাল (৩৮)।
মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। আমার প্রতিপক্ষ বুঝতে পেরেছে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আমার জনসমর্থন অনেক বেশি, তাই বাধ্য হয়ে তারা প্রথম থেকেই মারমুখী আচরণ করছে। আমি এই ঘটনায় নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি।’
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আমি আজকে মুন্সীগঞ্জ শহরে প্রচারে ব্যস্ত ছিলাম। যারা এই কাজটি করেছে, তারা খুব খারাপ কাজ করেছে। এর দায়ভার আমি বা আমার দল নেব না, যারা করেছে, তাদের দায়ভার নিতে হবে।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘বিকাল পৌনে ৫টার দিকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মহিউদ্দিনের সমর্থনে আমরা একটি মিছিল বের করেছিলাম। মিছিলটি গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে গজারিয়া গার্লস স্কুল পার হয়ে সোনালী মার্কেট এলাকায় আসলে ২০-২৫ জন বিএনপি প্রার্থী রতনের সমর্থক লাঠিসোটা হাতে অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ‘এরকম একটি খবর আমরা পেয়েছি। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ডামুড্যায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের হাতাহাতিতে আহত ২
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারে দ্বিতীয় দিনে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চর ধানকাঠি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে চর ধানকাঠি ইউনিয়নের বেপারী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চর ধানকাঠির বেপারী বাড়ির পেছনে নারীদের কোরআন তালিমের কথা বলে ডেকে এনে জামায়াতে প্রার্থীর সভার প্রস্তুতি নেয়। এ বিষয়ে বিএনপি সমর্থক কাদির (৪৫) প্রতিবাদ করলে একই এলাকার জামায়াতের কর্মী আক্তার বেপারীর (৪২) সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ডামুড্যা থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

