নীলফামারীতে আশ্বিনের ভারী বৃষ্টি

আগাম আলু ও সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

আগাম আলু ও সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

টানা খরার পর আশ্বিন মাসের মধ্যভাগে এসে কাঙ্ক্ষিত ভারী বৃষ্টির দেখা মেলায় নীলফামারী জেলার আমন চাষিদের মুখে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আমন ধানক্ষেতে এ বৃষ্টি নতুন প্রাণের সঞ্চার করলেও তীব্র দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে আগাম আলু ও শীতকালীন সবজি চাষিদের। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে সদ্য রোপণ করা আলু ও সবজি পচে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।

সরেজমিনে জানা যায়, গত কয়েক দিনের তীব্র খরার কারণে জেলার আমন ক্ষেতগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছিল যা ফসলের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার শঙ্কা তৈরি করে। অবশেষে বৃহস্পতিবার জেলাজুড়ে ঝরেপড়া আশ্বিনের এ বৃষ্টি আমন চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তবে আমন চাষিরা হাসলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে আলু ও সবজি চাষিদের মধ্যে। অসময়ের এ বৃষ্টি দীর্ঘায়িত হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ লোকমান হাকিম জানান, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবের কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি দ্রুত কমেও যেতে পারে, আবার একটানা তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হওয়ার লক্ষণও রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে নীলফামারীতে বৃষ্টি শুরু হয় এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল জানান, আশ্বিনের এ বৃষ্টি আমন চাষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে এটি আগাম আলু এবং শাকসবজির ওপর কিছুটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অতিরিক্ত ১২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ অর্জিত হয়েছে।

জেলার প্রবীণ আলুচাষি এইচএম আনোয়ার ইসলাম নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি এবার ১৬ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছি। বৃষ্টি অল্প সময়ে থামলে ক্ষতি হবে না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি হলে বীজ আলু পচে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

প্রাকৃতিক এ আবহাওয়ার কারণে আমন ক্ষেতে পানির স্বস্তি এলেও, এখন চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন জেলার আলু ও সবজি চাষিরা যাতে দ্রুত মেঘ কেটে আবার রোদ হাসে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন