দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আনারকলি চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন আহমেদ রিপন। সুস্বাদু এই ফল প্রথমবারের মতো চাষ হওয়ায় ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফুলবাড়ী উপজেলার সুজাপুর গ্রামের রায়হান আহমেদ রিপন ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি এই ফল চাষ করে সফল হয়েছেন। তিনি এখন নতুন উদ্যোক্তাদেরও পথ দেখাচ্ছেন।
জানা যায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমেদ রিপন কয়েক বছর আগে কক্সবাজারে ভ্রমণে যান। সেখানে রাস্তার পাশে আনারকলি ফল বিক্রি করতে দেখে ৫০ টাকায় একটি ফল কেনেন। খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় সেই ফলের বীজ নিয়ে এসে বপন করেন।
কিন্তু তেমন ফল পাননি। কোনো রকমে বীজ থেকে চারা গজালেও গাছ দুর্বল হয়ে মারা যায়। তবে হাল ছাড়েননি রিপন। গত বছরের ডিসেম্বরে কক্সবাজার থেকে ৯০০ টাকায় দুটি চারাগাছ কিনে নিজের জমিতে রোপণ করেন। ইউটিউব দেখে শুরু করেন পরিচর্যা। দিনে দিনে শাখা-প্রশাখায় ভরে ওঠে আনারকলি গাছ। মাত্র সাত মাসেই গাছে প্রচুর ফল ধরেছে।
সরেজমিনে রিপনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চার শতাংশ জমিতে লাগানো হয়েছে মাত্র দুটি আনারকলি গাছ। লতানো গাছের মাচায় ঝুলছে শত শত আনারকলি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক ফলপ্রেমী ও উদ্যোক্তারা ভিড় করছেন রিপনের বাড়িতে। দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের আনাগোনায় বিরক্ত নন রিপন। হাসিমুখে সবাইকে আনারকলি চাষ সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন তিনি। আগতদের আনারকলি খাইয়ে এর স্বাদ ও উপকারিতা সম্পর্কেও জানাচ্ছেন।
রিপনের প্রতিবেশী মুক্তি চক্রবর্তী জানান, এই এলাকায় আনারকলি চাষ এবারই প্রথম। এটি মূলত পাহাড়ি এলাকার ফল। এখানকার উর্বর মাটিতে গাছটি বেশ হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে এটি লাভজনক হবে বলে মনে করছি।
উদ্যোক্তা রায়হান আহমেদ রিপন বলেন, কক্সবাজারে ভ্রমণে গিয়ে এই ফল খেয়েছিলাম। গত বছর এর বীজ এনে বপন করেছিলাম। কিন্তু সফল হইনি। পরে ডিসেম্বর মাসে পরিচিত একজনের মাধ্যমে ৯০০ টাকা দিয়ে দুটি চারা সংগ্রহ করি। মাত্র সাত মাসেই গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। প্রায় প্রতিদিনই ফল কিনতে পাইকাররা বাড়িতে আসছেন। প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা। তবে আমরা এটিকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে চাই।
গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ফলে তেমন কোনো রোগবালাই নেই। গাছ রোপণের সময় জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। পরে পাতার পচন রোধে দু-একবার এমিস্টার টপজাতীয় ওষুধ স্প্রে করতে হয়। ফুল এলে মাছি দমনের জন্য ফেরোমোন ফাঁদ দিতে হয়।
ফুল ফুটলে পুরুষ ফুলের পরাগ স্ত্রী ফুলে সংস্পর্শ করাতে হয়। এতে ফলন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যথায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ফুল ফলে পরিণত হতে পারে। শুধু শীতের তিন মাস ছাড়া সারা বছর আনারকলি উৎপাদন করা যায়। একটি গাছ একটানা ১০ বছর ফল দেয়।
বর্তমানে বাজারে প্রতিটি ফল ৫০ এবং প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তিনি বলেন, ‘আমার দুটি গাছে এবারই প্রথম ফল এসেছে। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ফল পেয়েছি। গাছে এখনো শত শত আনারকলি রয়েছে।’
নতুন উদ্যোক্তাদের কথা ভেবে নিজেই গাছের চারা উৎপাদন করেছেন বলে জানান রিপন। এ পর্যন্ত ৩০০টির বেশি চারা প্রস্তুত করেছেন। প্রতিটি চারা ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। নিজের এক বিঘা জমিতেও চারা রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তার মতে, এলাকার মাটি উর্বর হওয়ায় প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০টি চারাই যথেষ্ট। এক বিঘা জমি থেকে বছরে ১৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আবদুল্লাহ মুস্তাফিন বলেন, ফুলবাড়ীর মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই মাটিতে এর আগে আনারস, এমনকি সৌদি আরবের খেজুরও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

