ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদক বেচাকেনার সময় স্থানীয় যুবকদের হাতে আটক দুই মাদক কারবারিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকায় লিবাটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকার সরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী দুই পিস ইয়াবা বিক্রি করেন একই গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজের কাছে। এ সময় স্থানীয় ২০ থেকে ২২ জন যুবক তাদের দুজনকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করেন।
পরে খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিব ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় যুবকদের অভিযোগ, তিনি তাদের থানায় দেওয়ার কথা বলে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। তবে শুক্রবার সকালে তারা থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আটক দুইজনকে থানায় দেওয়া হয়নি; বরং হাসিবুর হাসান তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুবকরা শুক্রবার গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে জুমার নামাজের পর দারোগার বাড়ি জামে মসজিদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। যুবকদের দাবি, মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় হাসিবুর হাসানের কাছে জবাবদিহি করা হবে।
নওয়াপাড়া গ্রামের যুবক আমীর হামজা ও শাকিল বলেন, “আমরা যুবসমাজ মাদক কারবারিদের ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরেছিলাম। পরে হাসিব ভাই থানায় দেওয়ার কথা বলে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। শুক্রবার সকালে থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তাদের থানায় দেওয়া হয়নি।”
তারা আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজ যখন কাজ করছে, তখন এভাবে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হলে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম ব্যাহত হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক ও মফিজুর রহমান বলেন, “যুবকেরা মাদক কারবারিদের আটক করে ভালো কাজ করেছে। তবে তাদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসিব বলেন, “আমি ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি কয়েকজন ছেলে দুইজনকে মারধর করছে। আমি মারধর বন্ধ করি এবং থানার ওসিকে ফোন করি।”
তিনি আরও বলেন, “ওসি সাহেব আমাকে বলেন, যেহেতু তাদের মারধর করা হয়েছে, আগে হাসপাতালে ভর্তি করতে অথবা এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলতে। পরে আমি তাদের গাড়িতে করে থানার সামনে নিয়ে যাই এবং আবার ওসিকে ফোন করি। তখনও একই কথা বলা হয়।”
হাসিবুর হাসিব বলেন, “এরপর ওই দুইজন আমার কাছে ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না বলে মুচলেকা দেয়। বিএনপির অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুল ইসলাম বলেন, “হাসিব ভাই আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি মারধরের কথা শুনে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছি এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

