দর্শকশূন্য মাঠে বিএনপির এমপিকে সংবর্ধনার ভিডিও ভাইরাল

বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

দর্শকশূন্য মাঠে বিএনপির এমপিকে সংবর্ধনার ভিডিও ভাইরাল

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালামকে দেওয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে মঞ্চের সামনের সারির চেয়ারগুলো ফাঁকা দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সমির উদ্দিন কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ডা. আব্দুস সালামকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে সংবর্ধনা জানাতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, তাঁতী দল, ওলামা দল ও শ্রমিক দলসহ প্রায় ১০টি সংগঠন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে অতিথিরা উপস্থিত থাকলেও সামনে থাকা বেশিরভাগ চেয়ার ফাঁকা। এ নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। কেউ কেউ অনুষ্ঠানটিকে ‘ফাঁকা মাঠের গণসংবর্ধনা’ বলেও আখ্যা দেন।

ফেসবুক ব্যবহারকারী সাহিনুর রহমান মন্তব্য করেন, “এটা তো বিশাল জনশূন্য জনসভা।” অপরদিকে মোখলেসুর রহমান লেখেন, “আজকাল সবাই নেতা হতে চায়, কিন্তু কেউ দর্শক হতে চায় না।”

তবে এসব সমালোচনার জবাবে সংসদ সদস্যের মেয়ে কাশফিয়া সালাম নির্ঝর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবি পুরো অনুষ্ঠানের চিত্র তুলে ধরে না। তিনি বলেন, তার বাবার মূল কর্মসূচি সন্ধ্যার দিকে নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জরুরি কাজে ঢাকায় ফিরতে হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিডিও বা ছবি দিয়ে পুরো আয়োজনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য না করার আহ্বানও জানান তিনি।

বিএনপির নেতাকর্মীরাও দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওটি অনুষ্ঠানের একটি ক্ষণিকের দৃশ্যমাত্র। পুরো আয়োজনের সার্বিক চিত্র সেখানে প্রতিফলিত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা দবিরুল ইসলাম বলেন, “ডা. আব্দুস সালাম ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় পরিচিত মুখ। তার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল। আমরা সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে জানতে পারি, জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে হওয়ায় বিকেলেই তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর।”

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এমপির জরুরি কর্মসূচির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে তাদের দাবি।

তবে অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. টি এম মাহাবুবুর রহমান, আইয়ুব আলী খান ও রাজিউর রহমান আসাদসহ কয়েকজন নেতাকে দেখা গেলেও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী ও সদস্য সচিব জিল্লুর রহমানসহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে উপস্থিত দেখা যায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...