কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাত দলের হাতে হত্যাকাণ্ডে শিকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফট্যানেন্ট তানজিম ছারোয়ার হত্যা মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এছাড়াও ৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে ১০ বছর করে সাজা দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুইটি মামলায় অভিযুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ৫ জনকে খালাস দেয়া হয়।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন মোরশেদ আলম, মো. হেলাল উদ্দিন, নুরুল আমিন ওরফে আমিন ও মো. নাছির উদ্দিন। এদের প্রত্যেকের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা এলাকায়।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেন কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর সিদ্দিকী।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের মধ্যে একজন পলাতক রয়েছেন। তিনি হলেন মোরশেদ আলম।
এই মামলায় সরকারপক্ষে সংযুক্ত কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, দুইটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় ৫২ জন ও অস্ত্র মামলায় ৪৬ জন সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করেছেন। এছাড়াও আসামিদের পক্ষে ৭ জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, সরকার পক্ষ ও আসামিদের সাক্ষীদের সাক্ষ্য, যুক্তিতর্ক শেষে পক্ষপাতহীন ও প্রভাব বিস্তার ছাড়া এই রায় দেয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেছেন। বিচারকও রায় দিতে সময় নিয়েছেন, কোন নির্দোষ যেন সাজা না পান।
এই মামলায় নানা মেয়াদে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, মো. আনোয়ার হাকিম, মো. জিয়াবুল করিম, মো. ইসমাইল হোসেন ওরফে হোসেন, এনামুল হক এনাম ওরফে তোতা এনাম, মোহাম্মদ এনাম, মো. কামাল ওরফে বিন্ডি কামাল ও আবদুল করিম ওরফে মো. করিম। এদের মধ্যে আবদুল করিম পলাতক রয়েছেন।
সূত্র মতে, ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি হত্যা ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা দুইটি মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়। দু’টি মামলাতেই ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা গেলেও ৬ জন রায় ঘোষণা পর্যন্ত পলাতক রয়েছেন।
ওই সময় চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবির অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মালামাল ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধে অভিযানে গিয়ে ডাকাত দলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার (২৩)। এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে একই আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করেন। মামলা দুটি তদন্তের দায়িত্ব পান চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী।
আদালত সূত্রমতে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় দুটি মামলায়ই এজাহারভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে ছয়জনকে বাদ দেয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয় সাতজনের নাম। চার মাস তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল তারা হলেন— জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, মো. ইসমাইল হোসেন ওরফে হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, মো. কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে আবদুল করিম, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ ও মিনহাজ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

