আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

চাটামোহরে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াত নেতাসহ আহত ৫

উপজেলা প্রতিনিধি, চাটমোহর (পাবনা)

চাটামোহরে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াত নেতাসহ আহত ৫
ছবি : আমার দেশ

হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল নিয়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিব, পৌর সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ।

ঘটনার পর বিকেলে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর) আসনের জামায়াতের এমপি মাওলানা আলী আছগার সংবাদ সম্মেলন করে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বাঁশি বাজানো ছাড়া হামলাকারীদের প্রতিহত করতে দেখা যায়নি। এ সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাটবাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষ দিন। একই সঙ্গে বিকেল ৩টায় দাখিলকৃত টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব ছাইকোলা হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করতে উপজেলায় যান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সে তার টেন্ডার শিডিউলটি ফেলেন।

এ সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তার ওপর হামলা করে। সেখানে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ প্রথমে তাদের নিবৃত করে নিচে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এর কিছু সময় পর ইউএনও অফিস থেকে নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। তখন ‌'জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন' বলেই তার ওপর হামলা করে মারধর শুরু করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সেখানে উপস্থিত আনসার সদস্য ও পুলিশ শুধু বাঁশি বাজিয়েছে। হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পারেনি। পরে বিএনপির এক নেতার সহায়তায় নিজেকে রক্ষা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিব।

ভুক্তভোগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান জানান, আমি ইউএনও সাহেবের কাছে এসেছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার দাখিল করেছেন তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানতামও না।

ইউএনও অফিসের কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় আমি, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ ৪-৫ জন আহত হই।

তিনি বলেন, স্থানীয় এমপি মহোদয় ও উপজেলা জামায়াতের আমিরকে জানিয়েছি। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অভিযুক্তদের একজন মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা কয়েকজন গিয়েছিলাম শিডিউল দাখিল করার শেষ সময় জানার জন্য। গিয়ে দেখি দলের ছেলেপেলেদের সাথে ঝামেলা। কার সঙ্গে কী নিয়ে ঝামেলা, তাও জানতাম না। পরে শুনেছি। হামলার সঙ্গে আমি জড়িত নই।

এ ব্যাপারে চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমি জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিব ভাইকে নিরাপদে নিয়ে আসি। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‌ঘটনা একটা ঘটেছে। ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। আজকে টেন্ডার দাখিল ও খোলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কীভাবে ঘটনা ঘটল, সেটি আমি বলতে পারছি না। থানার ওসি ভালো বলতে পারবেন। তার সঙ্গে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।

অন্য দিকে বিকেল ৪টার দিকে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের সারোড়া গ্রামে জামায়াতের সাবেক আমির তোরাব আলী বিশ্বাসের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় এমপি মাওলানা আলী আছগার হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর উপজেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...