আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মীর দাফন সম্পন্ন

উপজেলা প্রতিনিধি, রাউজান (চট্টগ্রাম)

রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মীর দাফন সম্পন্ন
গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী মুজিবুর রহমানের জানাজা - ছবি: আমার দেশে

রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী মুজিবুর রহমান (৫০)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাটে ফলের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় কয়েকজন যুবক এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার শরীরে তিনটি গুলি লাগে। অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

নিহত মুজিবুর উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আনজু পিতার বাড়ির মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী এবং রাউজানের নবনির্বাচিত এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী বলে জানান স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলা নং ৯। মামলার এজাহারে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪ জনসহ মোট ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, মামলা করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। এখন আর কিছু বলা যাচ্ছে না।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল আজিজসহ স্থানীয়রা বলেন, কয়েক দিন পূর্বে নারী সংক্রান্ত একটি শালিশী বৈঠকে এক যুবককে প্রহার করা হয়। সে বৈঠকে মুজিব উপস্থিত ছিলেন। গতকাল আবারও এই বিষয়ে মুজিবের সাথে অলিমিয়াহাটের একটি চায়ের দোকানে বাকবিতণ্ডা হয় প্রহার করা ওই যুবকসহ আরও কয়েকজনের। এরপর মুজিব পার্শ্ববর্তী একটি ফলের দোকানে আড্ডা দিতে যায়। সেখানেই প্রকাশ্যে কিছু যুবক তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল আজিজ আরও বলেন, আমরা ধারণা করছি যাদের সঙ্গে মুজিবের বাকবিতণ্ডা হয়েছিল তারাই আমার ভাইকে হত্যা করেছে। পুলিশ যদি তাদের একজনকে অন্তত গ্রেপ্তার করতে পারে, তবে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, আমার স্বামী ইফতারের সময় বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে শুনতে পাই আমার স্বামীকে ৩টা গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখি আর বেঁচে নেই। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।

নিহত মুজিবুর রহমানের ২ ছেলে। বড় ছেলে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। ছোট ছেলে প্রবাসে আছে। মুজিব পেশায় তেমন কিছু না করলেও বিয়ের ঘটকালি করতেন। আওয়ামী লীগ আমলে মুজিব একাধিকবার নির্যাতিত হয়েছেন বলে জানা গেছে । এমনি তাকে মেরে পুকুরে ফেলে দেওয়া এবং চোখের ভ্রু পর্যন্ত কেটে দেওয়া যায়।

এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, অলিমিয়াহাটের পাশেই থানা পুলিশের একটি তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। অথচ তারা নির্বিকার। মাস দুয়েকের মধ্যে এখানে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। এমনকি কোনো আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা এর নিন্দা জানাই।

এ বিষয়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব শ্রীঘ্রই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা যাবে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগে গত ৫ জানুয়ারি একই বাজার থেকে কিছু দক্ষিণে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে (৪৮) মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার দেড় মাস পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...