আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রংপুরে মালিকদের জরিমানা

বহু পাম্প থেকে উধাও পেট্রোল, সিন্ডিকেটে আটকা তেল

মেজবাহুল হিমেল, রংপুর অফিস

বহু পাম্প থেকে উধাও পেট্রোল, সিন্ডিকেটে আটকা তেল

এবার রংপুর বিভাগের অনেক পাম্প থেকে উধাও হয়ে গেছে পেট্রোল। দেশে সংকট তৈরির পায়ঁতারায় গ্রাহকদের দেয়া হচ্ছে না জ্বালানি তেলও। গ্রাহকরা বলছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করতেই মজুদ থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট করে জ্বালানি তেল দেয়া হচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআই এবং জেলা প্রশাসন যৌথি অভিযান চালিয়ে পাম্প মালিকদের জরিমানা ও সতর্ক করছে।

শনিবার সকাল থেকেই রংপুরসহ বিভাগের প্রতিটি পাম্পে বাইকসহ অন্যান্য যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার, এসইউভি বা জিপ ও মাইক্রোবাস ২০-২৫ লিটার এবং স্থানীয় বাস/ট্রাক ৭০-৮০ লিটার ডিজেল ও দূরপাল্লার গাড়িতে ২২০ লিটার ডিজেল দেয়া হচ্ছে পাম্পগুলোতে। তবে কোনো পাম্পেই পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। নিতে হচ্ছে অকটেন। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

বিজ্ঞাপন

নগরীর শাপলা ইউনিক পাম্পে কথা হয় ওষুধ কোম্পানির মোখলেছুর রিপ্রেজেনটিভ মোখলেছুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, ‘আমি যাবো নীলফামারী কিন্তু যে তেল দিয়েছে সেটা দিয়ে তো যাওয়া যাবে না আমার। আমি বিপদে পরে গেলাম না। আমার প্রয়োজন ৪ লিটার সেখানে পাইলাম ২০০ টাকার। তাহলে এখন আমি কি করবো। বিভিন্ন দোকান থেকে থেকে আমাকে টাকা কালেকশন করতে হবে। আবার যখন তেল শেষ হয়ে যাবে। তখন যদি পাম্পে তেল না দেয় তাহলে আমি কি করবো। সরকার তো বলছে তেল মজুত আছে। কিন্তু পাম্প থেকে জানা হচ্ছে তেল সংকট। এটার সুরাহার করতে হবে।

ab13ee58-8204-4b61-9265-810ecd3831ac

এ পাম্পে কথা হয় মাইক ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকীর সাথে। তিনি জানান, পাম্প মালিকরা তেল সংকট দেখাচ্ছে। এরা সিন্ডিকেট করে এটা করছে। এর মাধ্যমে তারা দাম বাড়ানোর ফন্দি আটছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। পেট্রোল থাকা সত্ত্বেও দিচ্ছে না। অকটেন নিতে হচ্ছে। এবার তেল ব্যবসায়ীদের পোয়া বাড়ো অবস্থা।

বাইক চালাক ব্যাংকার পাপ্পু মিয়া জানালেন, আমরা ভোগান্তির ‍মুখে পড়েছি। সবার মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে তেল সংকট। তাই আমিও চলে আসলাম পাম্পে। কিন্তু এখানে এসে দেখি পেট্রোল দেয়া হচ্ছে না। অকটেন নিতে হবে। কি যে সমস্যা সেটা আল্লাহ ভালো জানে। তবে ইউনিক পাম্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালকা মারুফুল ইসলাম সিফাত জানান, তেলে কোনো সংকট নেই। আমাদের পেট্রোল আমরা কাল (শুক্রবার) সারাদিন দিয়েছি। কিন্তু শুক্র শনিবার বন্ধ থাকায় ডিপো থেকে তেল নিতে পারি না। রোববার ডিপো খুললে আমরা পেট্রোল পাবো। তখন পেট্রোল দিবো। আপাতত অকটেন ডিজেল দিচ্ছি। তবে প্রচুর গ্রাহক আসছেন। আমরা সরকারি নিয়ম মেনেই দেখছি।

পাম্পটির মালিকের এই বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই শনিবার দুপুর ২টায় সেখানে অভিযান চালাতে দেখা যায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিএসটিআই। এ সময় পাম্প স্টেশনটিতে মজুদ থাকা থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল বিক্রি না করার বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আইন অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে পাম্প বন্ধ করে দেয়ারও সতর্ক করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে একই অপরাধে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকার সিটি পেট্রোল পাম্পের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক জানান, মজুদের তথ্য গরমিলের কারণে জরিমানা করা হয়েছে। আইন না মানলে আরও কঠোর হবে প্রশাসন। প্রতিটি পাম্পে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে ইউনিট পেট্রোল পাম্পের মালিকের দাবি, শুক্র, শনি বন্ধের কারণে তাদের পেট্রোলের মজুত শেষে হয়েছে। রোববার স্বাভাবিক হবে।

অভিযান পরিচালকারী বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক নাসির উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্টে অংশগ্রহণ করেছি। মহানগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অবৈধভাবে তেলের মজুত গড়ে তোলা হয়েছে কিনা। পরিমাপ ঠিক দিচ্ছে কি না এই বিষয়গুলো তদারকি করছি। ইউনিক পেট্রোল পাম্পে কি পরিমাণ তেল মজুত আছে সেটা তারা জানাতে পারেনি। তাদের আন্ডার গোডাউন স্টোরেজের ট্যাংক যেখানে তারা তেল মজুদ করে সেখানে একটি মজুদ ও বিক্রির চাট থাকে। সেটা দেখে আমরা জানতে পারি কি পরিমাণ তেল আছে। সেটাও তারা দেখাতে পারেনি।

রংপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারিমুল মাওলা বলেন, তেল যেনো অবৈধ মজুদা না হয়, কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় সেজন্য আমরা প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে অভিযান শুরু করেছি। আমরা মেসার্স ইউনিক পেট্রোল পাম্পে দেখি দুইটি মেশিন বন্ধ। শুধু অকটেন বিক্রি করছে। এই দুইটা আমরা চালু করছি। তাদের কত মজুদ আছে সেটা দেখাতে পারে নাই। সেজন্য তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নগরীর বাংলাদেশ ব্যাকং মোড়ে সিটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখি তাদের মজুদ আছে কিন্তু বিক্রি করছে না। তাদেরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব জায়গায় যথেষ্ঠ পরিমান সাপলাই আছে। কোন সংকট নেই। কাস্টমারগন যেন গুজুবে কান না দেন। যাতে কেউ অতিরিক্ত না কিনে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...