নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী আমেনা হত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। হত্যার ঘটনায় তার সৎ-বাবা আশরাফ আলী জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, আমেনা হত্যার ১০ দিন আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নুরাসহ তার চার বন্ধু মিলে কিশোরী আমিনাকে বাড়ি থেকে ডেকে একটি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনা জানতে পেরে আমেনার মা আফিয়া বেগম স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আমির হোসেনকে বিষয়টি জানান। এরপর আমির হোসেন ও তার ছেলে ইমরান বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমেনাকে নিয়ে তার পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।
এছাড়া ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে নূর মোহাম্মদ নূরা ও তার লোকজনসহ এলাকাবাসী নিহত আমেনার সৎ-বাবা আশরাফ আলীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং হুমকি দেয়। এতে আশরাফ আলী মেয়ের প্রতি অনেকটা বিরক্তিবোধ করে আমেনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে আমেনাকে সুমনের বাড়িতে দিয়ে আসার কথা, পথিমধ্যে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে চলে আসে। পরে আশরাফ আলী নিজেকে বাঁচানোর জন্য নুরাসহ তার বন্ধুরা আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যার নাটক সাজায়।
বিষয়টি সন্দেহ হলে পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারা হলো নূর মোহাম্মদ নুরা, এবায়দুল্লা, হযরত আলী, গাফ্ফার, আহাম্মদ আলী মেম্বার, ইমরান দেওয়ান, আইয়ুব, ইছাহাক ও বাবা আশরাফ আলী।
আসামিদের গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে আটদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কলিমুল্লাহ ও সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার হোসেন শামীমসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

