চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক করাতকল। বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকি ও যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিবেশের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই বন বিভাগের যোগসাজশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে শতাধিক করাতকল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বনাঞ্চলের পাশে দীর্ঘদিন ধরে এসব করাতকল অবাধে চললেও নেই কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এতে বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
জানা গেছে, গত ১৩ জুন ভোরে বনখেকোরা চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিট অফিসের পাশে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে সেগুন ও আকাশমণিসহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে আধুনগর ইউনিয়নের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা করাতকলে নিয়ে গেলে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে বন বিভাগ।
‘করাতকল বিধিমালা ২০১২’-তে বলা আছে, কোনো সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে, এমন স্থান এবং সংরক্ষিত বনভূমি বা সরকারি বনাঞ্চলের সীমানা থেকে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাতকল স্থাপন করা যাবে না। এসব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বন বিভাগ সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে উপজেলার ৯ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ করাতকল।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ফার্নিচার মার্কেট এলাকায় প্রায় ছয়-সাতশর অধিক আসবাবপত্র তৈরি করার দোকান রয়েছে। সে আসবাবপত্রগুলো তৈরি করার জন্য সে এলাকার কয়েকশ মিটার এলাকাজুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৯টি করাতকল। তাছাড়া চুনতি, বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ, পদুয়া, চরম্বা, কলাউজান ও পুটিবিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও চুনতি অভয়ারণ্য এলাকার পাশে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ করাতকল পরিচালনা করে যাচ্ছে একশ্রেণির প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
অন্যদিকে অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করায় সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। করাতকলের মালিকপক্ষ বলছেন, করাতকল পরিচালনা করার জন্য কয়েকটি দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে এক দপ্তর থেকে অনুমোদন পেলেও অন্য দপ্তর থেকে অনুমোদন দেয় না। তাই এভাবেই চলছে করাতকলগুলো।
একই জায়গায় অবৈধভাবে ৯ করাতকল কীভাবে চলছে—এ বিষয়ে পদুয়া রেঞ্জ বন কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া ও চুনতি রেঞ্জ বন কর্মকর্তা আবির হোসেন দুজনেই একে অপরের রেঞ্জের মধ্যে পড়েছে বলে এড়িয়ে যান।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ সোহেল রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

