গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে রাজিবপুর উপজেলার জিনজিরাম নদীর ওপর বালিয়ামারির বাঁশের সাঁকো এবং সোনাভরি নদীর ওপরে নির্মিত কাঠের সেতু। এতে দুই উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে চলে আসা কচুরিপানা আটকে কাঠের ও বাঁশের ব্রিজ দুটি ভেঙে গেছে। জানা গেছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই জিনজিরাম ও সোনাভরি নদীতে ছোট নৌকা দিয়ে এলাকার লোকজন পার হতো। বারবার চেষ্টা করেও সেতু না হওয়ায় এলাকাবাসী এই জিনজিরাম নদীর ওপর বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দেন। অপরদিকে গত বছর সোনাভরি নদীর ওপরে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করে দেয় সরকার। ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমে। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে সেতু দুটি ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা যায়, কোদালকাঠি এবং রাজিবপুরে সংযোগ সড়কের ওপর সোনাভরি নদীতে একটি কাঠের ব্রিজ করে দেয় কর্তৃপক্ষ, কিন্তু ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কচুরিপানা আটকে এই ব্রিজটিও ভেঙে যায়। এতে করে কোদালকাঠির ২০ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছে। তাদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যমটি ভেঙে পড়ায় নিজেরাও ভেঙে পড়েছেন।
কোদালকাঠি ইউনিয়নের চর সাজাই গ্রামের আমিনুর রহমান মাস্টার জানান, অনেক দেন-দরবারের মাধ্যমে সোনাভরি নদীর ওপর এই কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি।
পাখিরা গ্রামের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, সামনে ঈদ, আমাদের এলাকার হাজারো মানুষ কেনাকাটার জন্য রাজিবপুরে আসেন। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের খুব কষ্ট হয়েছে। তিনি চান অতি শিগগিরই এই ব্রিজ মেরামত করা হোক, যাতে এলাকাবাসী সহজে পারাপার হতে পারে।
রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিরন মো. ইলিয়াস জানান, জিনজিরাম ও সোনাভরি নদীর ওপর বাঁশের ও কাঠের সাঁকো দুটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষ খুবই কষ্টে পড়েছে। তিনি ব্রিজ দুটি মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

