বন্যার পানি নামছে , বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন

উপজেলা প্রতিনিধি, পেকুয়া (কক্সবাজার)

বন্যার পানি নামছে , বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র।

বিজ্ঞাপন

কোথাও কাদায় ডুবে আছে বসতঘর, কোথাও ভেঙে গেছে সড়ক। তলিয়ে যাওয়া কৃষিজমি, ক্ষতিগ্রস্ত মাছের ঘের এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া গৃহস্থালির সামগ্রী নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে হাজারো পরিবার।

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলা সদর, টইটং, রাজাখালী, বারবাকিয়া, মগনামা, উজানটিয়া, শিলখালী ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা কয়েক দিন পানির নিচে ছিল।

বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় পানি কমলেও অনেক নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকার পেছনে বিভিন্ন স্লুইসগেটে জাল ও প্রতিবন্ধক বসিয়ে পানি চলাচল ব্যাহত করার ঘটনা বড় ভূমিকা রেখেছে। এতে পানি দ্রুত নামতে পারেনি এবং বহু পরিবার দিনের পর দিন পানিবন্দি ছিল।

স্থানীয়দের দাবি, স্লুইসগেট খুলে দেওয়ার পরই কয়েকটি এলাকায় দ্রুত পানি নামতে শুরু করে।

রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন ঘোনার নুর এলাকার আয়েশা বলেন, পানি নেমে গেলেও ঘরের ভেতরে কাদা, ভেজা কাপড়, জ্বালানি কাঠ সবই নষ্ট হয়ে গেছে।

পেকুয়া পৌরসভার টেকপাড়ার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, তাদের এখনো নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ত্রাণ মিললেও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে কৃষি ও মৎস্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি, সবজিক্ষেত, পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক ও মাছচাষি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব এবং ভাঙা সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন জলাবদ্ধতা এড়াতে স্লুইসগেট ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কার্যকর তদারকিরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন