অভিমান করে আদায় করা সেই বাইকেই প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

ময়মনসিংহ অফিস

অভিমান করে আদায় করা সেই বাইকেই প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে আফতাব শাহরিয়ার মাহির (২০) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। তিনি নান্দাইল উপজেলার মুসল্লি গ্রামের আব্দুল কাইয়ূম রেনু মিয়ার ছেলে এবং ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের মতো একটি মোটরসাইকেল চেয়েছিলেন তিনি। সেই আবদার পূরণ করতে বাবাকে অনেকটা বাধ্যই করেছিলেন। অভিমান করে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ, এমনকি বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ছেলের জেদের কাছে হার মেনে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। কিন্তু মাত্র চার মাসের মাথায় সেই মোটরসাইকেলই কেড়ে নিল একমাত্র ছেলের প্রাণ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে হারুয়ার দিকে যাচ্ছিলেন মাহির। চরহোসেনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মাহির সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একমাত্র ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা আব্দুল কাইয়ূম রেনু মিয়া। বুকফাটা আর্তনাদ করে তিনি বলেন, ছেলের আবদার মেটাতেই বাইকটা কিনে দিছিলাম। সেই আবদারই আজ আমার একমাত্র ছেলেকে চিরতরে কেড়ে নিল।

এদিকে মাহিরের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কলেজ ক্যাম্পাসেও বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ মোশারফ জানান, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...