নানির সঙ্গে দেখা করতে সিলেট থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে নানা বাড়িতে আসছিলেন আরমান (২৫)। কিন্তু নানির সঙ্গে আর দেখা হলো না তার। পথেই দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন এই যুবক। নাতির নিথর নাতির পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭০ বছর বয়সী নানি রাবেয়া খাতুন। তার বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ।
শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন অটো ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কুমিল্লামুখী দ্রুতগতির একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান আরমান। আহত হন অটোরিকশার চালকও।
নিহত আরমান সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি একজন মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন। তার নানাবাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামে।
স্বজনেরা জানান, স্বামী ও ছেলেকে হারানোর পর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নাতি আরমানই ছিলেন রাবেয়া খাতুনের প্রধান ভরসা। বৃদ্ধা নানির ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করতেন তিনি। সেই নাতিকে হারিয়ে এখন অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন রাবেয়া খাতুন। দুর্ঘটনাস্থলে নাতির লাশের পাশে বসে তার কান্না ও আহাজারিতে উপস্থিত লোকজনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আরমানের তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে, নাম আরিয়ান। তার স্ত্রী স্বপ্না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, ছোট সন্তান ও অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরমানের লাশ ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

