সিরাজগঞ্জে হত্যা মামলায় এক পরিবারের পাঁচজনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে হত্যা মামলায় এক পরিবারের পাঁচজনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে খেজুরের রস বিক্রেতা হত্যা মামলায় এক পরিবারের পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি জসের আলী, আল-আমিন, আশরাফ আলী, রফিকুল ইসলাম ও সবুরকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ম আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের সুজাত আলী ওরফে টুক্কা, তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন ও তাদের মেয়ে ফাতেমা খাতুন, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার দেওভোগ গ্রামের কাদের খন্দকারের ছেলে হায়দার আলী এবং একই গ্রামের সেলিমের স্ত্রী হোসনে আরা খাতুন।

অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামচুজ্জোহা শাহানশাহ বলেন, এই মামলায় মোট ১০ আসামির মধ্যে ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার হাসনা গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখ পেশায় খেজুরের রস বিক্রেতা। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। খেজুরের রসের ব্যবসার জন্য রায়গঞ্জ উপজেলায় গেলে আসামি সুজাত আলী ওরফে টুক্কার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে টুক্কার বাড়িতে বসবাস করেন জাহাঙ্গীর। এ সময় টুক্কার মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে জাহাঙ্গীর শেখের। ২০০৭ সালের ৩ এপ্রিল খেজুরের রস বিক্রেতা জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর কাছে খবর আসে তার স্বামীকে খুন হরে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মায়া খাতুন বাদী হয়ে সুজাত আলী ওরফে টুক্কার নাম উল্লেখ করে সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে। ২০০৮ সালের ৫ মে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘ স্বাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আজ আদালতের বিচারক এ রায় দেন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন