সরকারের প্রশংসিত অর্জনগুলো ম্লান করতেই কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অনৈতিক ফায়দা লুটে নিচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।
রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্বরে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
রংপুর সাংবাদিক সমাজের সভাপতি, একুশে টেলিভিশনের বিভাগীয় প্রধান ও প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী বাদলের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিক, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাদশাহ ওসমানী, মাহিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু নাগ, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান, রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মাহফুজ আলম প্রিন্স, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ জামান আফজাল প্রমুখ। মানববন্ধনে জেলার আট উপজেলা থেকে আগত শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের পর থেকে মাত্র ৬০ (ষাট) দিনে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনকালীন তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড চালু করেছেন। কৃষকের ১০ হাজার টাকা ঋণ সুদসহ পরিশোধ করেছেন। শুরু করেছেন খাল কাটা কর্মসূচি। এ ছাড়াও দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গ্রহণ করেছেন নানা পরিকল্পনা।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি। তার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নারীর আর্থ-সামাজিক মান উন্নয়নমূলক গৃহীত কর্মসূচিগুলো দেশ ও বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তবে তার এই পরিকল্পনার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে কতিপয় অসাধু দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ, আমলা ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ৫ আগস্টের আগে যারা বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা লাগাতে ব্যস্ত ছিল, তারাই এখন নিজেদেরকে বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ বলে দাবি করছে। এ দাবি তুলে তারা নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। এরাই সরকারের সকল প্রশংসিত অর্জনগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জনসেবার বদলে কৌশলে বিভিন্ন দফতরে জনদুর্ভোগ তৈরি করছে।
সম্প্রতি রংপুরের কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনার মো. সফিউর রহমানের নেতৃত্বে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিএনপির হাইকমান্ডের নাম ভাঙিয়ে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে রংপুরের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় তারা সংবাদকর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। এরই জের ধরে গত ২৩ এপ্রিল রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কাস্টমস কমিশনারের রোষানলের শিকার হন সাংবাদিকগণ। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বর্ষীয়ান সাংবাদিক সালেকুজ্জামান তাদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন।
সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, যেখানে বর্তমান সাংবাদিক-বান্ধব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমে অবাধ তথ্য আদান-প্রদানে বিশ্বাস করেন, সেখানে ওই কর্মকর্তার আচরণে সাংবাদিকদের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই জনবান্ধব সরকারের কাছে প্রত্যাশা, সরকারের লোক পরিচয়ে যারা ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে, সেই ধরনের দুর্নীতিবাজদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করে রংপুর কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটে দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

