দেশের ক্রান্তিকালে শহীদ জিয়ার আবির্ভাব: ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা

চট্টগ্রাম ব্যুরো

দেশের ক্রান্তিকালে শহীদ জিয়ার আবির্ভাব: ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা
ছবি: আমার দেশ

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন, তখন দেশ এক ক্রান্তিকাল পার করছিল। দেশের মানুষের অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

ঠিক তখনই জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটে। এমন একটা সময়ে তার আবির্ভাব হয়েছিল, যখন গোটা জাতি দিশেহারা ছিল। তিনি সেই সংকট থেকে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সহযোগিতা করেছিল।

বিজ্ঞাপন

রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আমানবাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার পিতা মরহুম ওয়াহিদুল আলমের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও মেজবানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আজীবন অকাতরে কাজ করে গেছেন। তার দল বিএনপিও বর্তমানে সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে৷ তাই দেশের মানুষ বিপুল ভোটে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় পাঠিয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, জিয়াউর রহমানের ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘১৯ দফা’ ছিল এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির মূল চালিকাশক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার সেই ১৯ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুগোপযোগী ‘৩১ দফা’ প্রণয়ন করেছেন এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের মাত্র ১১০ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে আমাদের এই ভূখণ্ড স্বাধীন হতো না। তিনি সর্বদাই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তার সততা, সাহসিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এ দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছিল।’ তিনি শুধু জিয়া নন, চরিত্র, আদর্শ ও দেশাত্মবোধে তিনি ছিলেন অনন্য৷ যার জীবনজুড়েই একটি বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ। তিনি ধারণ করতেন ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’৷

নিজের পিতা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ওয়াহিদুল আলমের কথা স্মরণ করে সাকিলা ফারজানা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবা মরহুম ওয়াহিদুল আলম ছিলেন হাটহাজারীর মাটি ও মানুষের নেতা। এখানকার জনগণ তাঁকে বারবার ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়েছেন।

আমি তাঁদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।" শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবা ওয়াহিদুল আলমের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা৷ আজও সেই পথে চলার চেষ্টা করছি৷ এ সময় তিনি আগামী দিনেও হাটহাজারী এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী৷ এছাড়া হাটহাজারী উপজেলা ও জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সভা শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও ওয়াহিদুল আলমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং উপস্থিত সবায় মেজবানিতে অংশ নেন।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...