আত্রাইয়ের নদীতে জেলেদের মাছ শিকারের ধুম

মুজাহিদ খান, আত্রাই (নওগাঁ)

আত্রাইয়ের নদীতে জেলেদের মাছ শিকারের ধুম
আত্রাইয়ে নদী ও খাল-বিলে মাছ ধরছেন জেলেরা। আমার দেশ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নদী ও খাল-বিল বন্যার পানিতে পরিপূর্ণ হওয়ায় জেলে পরিবারের মাঝে মাছ শিকারের ধুম পড়েছে। অনেকেই নদী ও খাল-বিলের বিভিন্ন স্থানে তাদের খড়াজাল স্থাপন করে মাছ শিকার শুরু করেছেন।

আবার অনেক পরিবারের মাঝে মাছ শিকারের প্রস্তুতি হিসেবে জাল স্থাপনের জন্য প্রস্তুতিত ব্যস্ত সময় পার করছেন। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ে, যা তাদের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আত্রাই উপজেলা যুগ যুগ ধরে বন্যাকবলিত এলাকা। ভৌগোলিক দিক থেকে এ উপজেলার বুক চিড়ে ঐতিহাসিক আত্রাই নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর দুপাশের খাল-বিলগুলো অল্পতেই পানিতে ডুবে যায়। এবারও গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল পানিশূন্য হওয়ায় বেশ কয়েক মাস ধরে জেলে পরিবারের মাঝে অভাব অনটন দেখা দেয়। মাছ শিকার করতে না পেরে অনেক জেলেরা পেশা পরিবর্তন করে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য পেশা অবলম্বন করেন। সম্প্রতি নদী ও খাল-বিলে পানি আসায় তাদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, উপজেলার আট ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। শুধু বর্ষা মৌসুমে মাছ শিকারের অর্থ দিয়ে সারা বছর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ কষ্টকর হয়ে যায় বলে অনেক জেলে জানিয়েছেন। উপজেলার খনজোর গ্রামের মৎস্যজীবী অজিত কুমার হাওলাদার বলেন, ‘আগে সারা বছরই আমরা মাছ শিকার করতে পারতাম। কিন্তু এখন শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বছরের অর্ধেকের বেশি সময় মাছ শিকার করতে পারি না।’ মৎস্যজীবী স্বপন কুমার হাওলাদার বলেন, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে আগের মতো আর মাছ হচ্ছে না। এখন যত্রতত্র রিংজালের ব্যবহারে ব্যাপক হারে মাছ নিধন করা হচ্ছে। এ জাল এতটাই মারাত্মক যে, মাছের একেবারে ছোট পোনাও রেহাই পায় না। ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশি প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকছুদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘আত্রাই উপজেলা মাছের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হয়। উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছের প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ রিংজাল ব্যবহার না করার জন্য আমরা ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা করছি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রিং ও কারেন্টজাল জব্দ এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, অবৈধভাবে মাছ শিকারিদের কবল থেকে দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। সেখানে নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং বিক্রেতাদের জরিমানাও করছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...