সীতাকুণ্ডে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তির শিকার পৌরবাসী

জহিরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

সীতাকুণ্ডে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তির শিকার পৌরবাসী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভা এখন প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, সমন্বয়হীনতা ও কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পৌনে দুই লাখ সাধারণ মানুষ । বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এ পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়নে। ভেঙে পড়েছে পৌর সড়ক ব্যবস্থা। বেড়েছে মশার উপদ্রব।

জানা গেছে, পৌর সড়কব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। খাবার পানির সংকটে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী। বেড়েছে মশার উপদ্রব। এসব সমস্যা দীর্ঘদিনেও সমাধান হচ্ছে না ।

বিজ্ঞাপন

পৌরসভার প্রশাসনিক কাঠামো বর্তমানে তিনটি পৃথক বলয়ে বিভক্ত হয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা ব্যবস্থাও পরিচালিত হচ্ছে তিনটি আলাদা খাতার মাধ্যমে, যা প্রশাসনের একক নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

​এ অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও শৃঙ্খলা সংকট নিয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, প্রশাসন বিভাগের ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাজিরা খাতা তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অন্যদিকে প্রকৌশল বিভাগের ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাজিরা খাতা রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবীর কাছে। এছাড়া সুইপার, ইলেকট্রিশিয়ান, নাইটগার্ডসহ ৩৬ জন মাস্টাররোল কর্মচারীর হাজিরা তদারকি করেন কনজারভেন্সি সুপারভাইজার রাজকুমার। তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও শৃঙ্খলা সংকট বর্তমানে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার কারণে নাগরিক সেবার ক্ষতি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাজিরা খাতা নিয়ে এ অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে দিন দিন প্রশাসনিক দুর্বলতা আরো তীব্র হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জনসেবার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কারণ ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী ও চালকদের এবং কয়েকটি সড়কের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও এখনো কাজ শুরু করা হয়নি। এছাড়া পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট না থাকায় রাত নামলেই বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায় যা চুরি-ছিনতাইসহ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহব্যবস্থা না থাকায় বহু বাসিন্দা এখনো অনিরাপদ ও অতিরিক্ত আয়রনযুক্ত পানির ওপর নির্ভরশীল। পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার দুর্বলতায় নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বিভিন্ন এলাকার নালা-নর্দমা ময়লা-আবর্জনায় ভরে উপচে পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল বায়োমেট্রিক হাজিরা ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করলেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকটের সমাধান হবে না; প্রশাসনিক বিভক্তি দূর করে কঠোর তদারকি, কার্যকর সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

​সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ডিজিটাল বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...