পাবনার ঈশ্বরদীর সাহাপুর চরগড়গড়িতে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় সংঘর্ষের ঘটনায় দুপক্ষই থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে।
দুই মামলায় মোট চার শতাধিক আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ জনের নামও উল্লেখ রয়েছে।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার।
বিএনপির মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের এমপি প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলকে।
অপরদিকে, জামায়াতের দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন বিএনপির সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধা।
থানা সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০–২০০ জনকে আসামি করেছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে মক্কেল মৃধাকে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০–১৫০ জনকে আসামি করেন।
মামলা হওয়ার পর থেকেই চরগড়গড়ি এলাকায় ভয়-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই পক্ষের বহু নেতা–কর্মী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে, এলাকায় পুরুষশূন্য পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এদিকে, পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলকে মামলায় আসামি করায় এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে তাৎক্ষণিক ঈশ্বরদী শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে উপজেলা জামায়াত।
জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্বনির্ধারিত প্রচারণার সময় বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী মক্কেল মৃধার নেতৃত্বে সশস্ত্র লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার মাইক্রোবাস ও অন্তত ৫০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করে বলেন, বরং জামায়াত নেতাকর্মীরাই তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছোড়ে। এতে ৪০–৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং অনেকে এখনও চিকিৎসাধীন।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মাদ শাজাহান আলী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। হামলায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্রধারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত:
মামলা ও পরবর্তী ধরপাকড়ের কারণে সাহাপুর চরগড়গড়িতে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘরবন্দি, স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


বিএনপি–জামায়াত ‘সংঘর্ষে’র পর ঈশ্বরদীর পরিস্থিতি শান্ত হলেও চাপা উত্তেজনা