যমুনার ভাঙনে ঝুঁকিতে বেড়ার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র

যমুনার ভাঙনে ঝুঁকিতে বেড়ার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র
যমুনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন। আমার দেশ

পাবনার বেড়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা যমুনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন। এছাড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ও পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রামের বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিশাল জনপদ এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। ফলে নতুন করে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন নদীর তীরের হাজার হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, চরকল্যাণপুর, চর সিংহাসন, বক্তারপুর, নেউলাইপাড়ার এলাকায় নদীভাঙনে গত এক সপ্তাহে শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি, গাছপালাসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া কল্যাণপুরের ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের একটি পিলার মঙ্গলবার রাতে নদীতে বিলীন হলে বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক। পরে ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত সঞ্চালন লাইন মেরামত শেষে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ আপাতত স্বাভাবিক হলেও চরের হাজার হাজার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কিত। কেননা, যেভাবে নদীভাঙন চলছে, তাতে যেকোনো সময় কল্যাণপুর উপকেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বুলুবুল হাসান নামে স্থানীয় বাসিন্দা আমার দেশকে জানান, প্রতিবছর এ এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারাভাবে কিছু জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে লোকদেখানো ভাঙন রোধ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও ভাঙন রোধের চিহ্ন পরে খুঁজে পাওয়া যায় না।

কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের লাইন টেকনিশিয়ান (এলটি) মো. আলাউদ্দিন জানান, গত মঙ্গলবার রাতে আকস্মিক ভাঙনে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমারসহ একটি খুঁটি (পোল) নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। তিনি আরো জানান, উপকেন্দ্রটি থেকে যমুনা নদী ২৫০ মিটার দূরত্বের মধ্যে চলে এসেছে। খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি।

বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপবিভাগের প্রকৌশলী মো. হায়দার আলী বলেন, কল্যাণপুরসহ কয়েকটি জায়গায় যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙনের খবর পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।

আশা করছি, খুব দ্রুতই নদীভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন