কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে চিকিৎসকসহ ১১ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের ওমরাকান্দা সেতুর ঢালে ওঠার সময় অতিরিক্ত গতির কারণে মেঘনা রূপান্তর বাস সার্ভিসের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে মেঘনাগামী গাড়িটিতে চালক ও হেলপারসহ মোট ১৩ জন ছিলেন। এর মধ্যে ১১ জন ছিলেন যাত্রী এবং দুর্ঘটনায় তারা সবাই আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আহতদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। তারা হলেন-উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের জসীম মিয়ার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৭) ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার (১১), মুগারচরের বদরুজ্জামানের ছেলে জিহাদ হোসেন (১৫), নয়াগাঁওয়ের শাহজালাল মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৬৫), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সাইমুম মুশফিক অমি (২৯) এবং ডা. সাকিব আহমেদ (৩০)।
এছাড়াও ফিরোজা বেগম (৪৫), মির্জা মাহবুব (৫৮), সাকিব (৩৮), বাদল খান (৪৭) ও আমেনা বেগম (২৩) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে দুর্ঘটনায় চালক ও হেলপার সামান্য আঘাত পেলেও তাদের গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা হয়নি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুন নাহার কলি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন চিকিৎসকও ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে কর্মস্থলে আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

