নারী ঘটিত ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মঞ্জুরুল আলম বাপ্পী সমর্থকদের হামলার নয় দিন পর আহত আব্দুর রকিব ঝনু মারা গেছেন। শুক্রবার ভোর রাতে ঢাকা মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুর রকিব ঝনু (৪০) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীরডাঙা গ্রামের ডা. আব্দুর রশিদের ছেলে।
এ ঘটনায় আশরাফুল আলম ডাবলু বাদী হয়ে বৃহষ্পতিবার একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করায় প্রকৃত হামলাকারীরা শাস্তি পাবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত আব্দুর রকিব ঝনুর বাবা আব্দুর রশিদ জানান, স্থানীয় রুহুল আমিনের ছেলে ইমন ও ঘোনা ইউনিয়নের শাহীনুর রহমান ওরফে লাল্টুর ছেলে নাজমুলের সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৮ আগস্ট রাত ৯টায় শ্রীরডাঙার মোড়ে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি, ছাত্রদল নেতা জাহিদ ও তার সমর্থকরা ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি জহিরুল ইসলামের ভাই ইউপি সদস্য শাহীনুর রহমান লাল্টু ও তার সমর্থকদের ওপর আব্দুল মাজেদের চায়ের দোকানে সশস্ত্র হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীদের লোহার রডের আঘাতে তার ছেলে আব্দুর রকিব ঝনুর মাথা মারাত্মক জখম হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আব্দুর রকিবের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৯ আগষ্ট সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে(আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
নিহত আব্দুর রকিব ঝুনুর ভাই বেলাল হোসেন জানান, ঢাকা মেডিকেলের মর্গে শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাতে লাশ বাড়িতে পৌঁছেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদুর রহমান জানান, আব্দুর রকিব ঝনুর ওপর হামলার ঘটনায় ভিকটিমের সঙ্গে ছবিতে একসাথে থাকা ঘোনা গ্রামের শ্রীডাংগার আছিরউদ্দিন সরদারের ছেলে আশরাফুল আলম ডাবলু বাদী হয়ে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে পশু চিকিৎসক জাহিদ হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করা করেছেন। ভিকটিমের মৃত্যু সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার পর হত্যা চেষ্টা মামলার সঙ্গে ৩০২ ধারা সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি বলেন, ইমন ও বিএনপির নামে কটূক্তি করাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে লাল্টু মেম্বর ও তার লোকজন তাদের উপর হামলা করে ৬/৭ জনকে আহত করে। ৯ আগস্ট মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি বাদী হয়ে ইউপি সদস্য শাহীনুর রহমান লাল্টু ও সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মুসাসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১২ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তীকালে তারা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শহরে কয়েকবার বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের অপসারণ দাবি করা হয়।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

