সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মুগাইপার গারো পল্লীতে ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সম্প্রীতির ওয়ানগালা উৎসব’। বৃহস্পতিবার এ উৎসবের আয়োজন করে সুনামগঞ্জ ইয়থ পিস এম্বাসেডর গ্রুপ।
গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করা এবং গারো জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করা।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন সুনামগঞ্জ সদরের চেয়ারম্যান মিন্টু দিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন গারো অধ্যুষিত পাঁচ গ্রামের মাতব্বর হাজার মারাক, শ্যামল ডিব্রা, এলস দিও ও ডমিনিক মৃ।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সুনামগঞ্জ পিএফজির এম্বাসেডর সিরাজুল ইসলাম পলাশ ও ওয়াইপিএজির যুগ্ম সমন্বয়কারী অনন্যা তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য দেন এমআইপিএস প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর নাজমুল হুদা মিনা। সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করেন নন্দিতা মানখিন ও সলোমন যেত্রা। জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে গারো সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের সংস্কৃতির নানা দিক নৃত্য, গান ও পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরেন। গারো (মান্দি) গান পরিবেশন করেন খ্রিস্টিনা দিও, চাইনিং আরেং, উদয় সাংমা, আরিয়ান মান্দা ও শিমিরন সাংমা।
গারো (মান্দি) নৃত্য পরিবেশন করেন প্রেমা ও হেমন্টী, ম্যাট্রিন হাপিদক ও নবনীতা চাপ্পুণৎ, চেলসি ও অঙ্কিতার দল, রিয়া দিও ও লিপা দিও, অভিভেন্স যেত্রা ও আরোহী চিরান, তিথি তজু ও শ্রেষ্ঠা নকরেক, প্রত্যাশা মৃ ও গ্রেসি মৃ, প্রমি যেত্রা, রত্না হাজং, মেত্রী হাজং, সৃষ্টি ও তার দল, শান্তি ও তার দল এবং দিতি ও তার দল।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গারো সম্প্রদায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে বসবাসকারী একটি অন্যতম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বসবাস রয়েছে। সুনামগঞ্জের পাহাড়ি ও বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাতেও গারো জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত জীবনযাপন করে আসছে।
গারোদের সর্বাধিক পরিচিত উৎসব ‘ওয়ানগালা’, যা মূলত ধান সংগ্রহ ও ফসলের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উৎসব। এ উৎসবে নৃত্য, ঢোল-বাঁশির বাদ্য এবং ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করা হয়।
বক্তারা গারো সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সরকার, সমাজ ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নেন পিএফজি সদস্য নূরুল হাসান আহাহের, মুছিহুর রহমান রাসেল, প্রতীমা রানী দাস, কর্ণবাবু দাস এবং ওয়াইপিএজির আলী ইমরান, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, গারো আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

