আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নৌকা তৈরি করে শত শত পরিবারের ভাগ্য বদল

এম লোকমান হোসেন, চরফ্যাশন (ভোলা)

নৌকা তৈরি করে শত শত পরিবারের ভাগ্য বদল

ভোলার লালমোহন, চরফ্যাশনের গজারিয়া ও ভোলা জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে প্রসিদ্ধ নৌকা তৈরি করে শত শত পরিবার ভাগ্য বদল করেছে। জানা গেছে, যারা নৌকা তৈরি করে জেলেদের কাছে বিক্রি করেন, তাদের বেপারী বলা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মামুন হোসেন, নাগর, কালাম, আলমগীর হোসেন, বেল্লাল হোসেন, হাসান, মিলন, আল-আমীন, শানু, ইকবাল হোসেন, জুয়েল, শেখ ফরিদ, আমির হোসেন তাদের মধ্যে উল্লখযোগ্য বেপারী। সবাই নৌকা তৈরি ও বিক্রি করেন। নিজের সন্তান, পরিবার ও পরিজন নিয়ে ভালোই কাটছে তাদের দিনকাল ।

বিজ্ঞাপন

মামুন বেপারী বলেন, ‘তার নৌকা তৈরির কারখানায় চারজন মিস্ত্রি কাজ করেন। ভোলা জেলার চরফ্যাশন, দক্ষিণ আইচা, শশীভূষণ, দুলারহাট থানা, মনপুরা উপজেলাসহ জেলার পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে জেলেরা এখানে নৌকা কিনতে আসেন। তাদের চাহিদামতো নৌকা আমরা তৈরি করে দেই। তৈরি করা নৌকা বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে।’

আলমগীর বেপারী জানান, নৌকা তৈরির কারখানায় সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করেন শ্রমিকেরা। তৈরি করা নৌকা জেলেরা কিনে নিয়ে যান। তিনি আরো বলেন, আমাদের সরকারিভাবে কোনো আর্থিক সহায়তা করা হয়নি। সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেলে পেশাটি আরো উন্নত করতে সচেষ্ট হবেন তারা।

চরফ্যাশন-ভোলা মহাসড়কের কোল ঘেঁষে লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে বহু নৌকা তৈরির কারখানা। প্রতি বছর মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে নৌকা থাকার কারণে সারা বছর নৌকা তৈরির কাজ করতে হয় কারিগরদের। নৌকা তৈরির কারিগরেরা সাধারণত ডিঙি ও কোষা দুই ধরনের নৌকা তৈরি করে থাকেন। কোষা ৯-১০ ফুট আর ডিঙি নৌকা ১৫-১৬ ফুট দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে। কাঠসহ প্রয়োজনীয় মালামাল প্রস্তুত থাকলে দৈনিক দুটি থেকে তিনটি নৌকা তৈরি করা সম্ভব হয়। তবে এখানে কোষা নৌকার কদর সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। 

সাধারণত নৌকা তৈরিতে কড়ই ও চম্বল, সুন্দরী গাছের কাঠ, ধাতু দ্রব্য পেরেক, তারকাটা, জলুয়া ব্যবহার হয়ে থাকে। তাছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেহগনি গাছের কাঠ ব্যবহার করে থাকেন কারিগরেরা। ১২ হাত লম্বা একটি নৌকা তৈরি করতে তিনজন শ্রমিকের মজুরি প্রায় ৩-চার হাজার টাকা। কাঠ বাবদ খরচ হয় ৪ হাজার টাকা, আনুষঙ্গিক উপকরণ বাদে খরচ হয় ৩ হাজার টাকা। ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে একটা নৌকা তৈরি করে বিক্রি হয় ১৪/১৫ হাজার টাকা। নৌকার ব্যাপারীরা জানান, প্রতিদিন সব খরচ মিটিয়ে সামান্য কিছু টাকা লাভ হয় আমাদের। তার পরও ৪০ বছর ধরে চলে আসা এ শিল্পকে আমরা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।

এসআই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন