আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হারানো আসন পুনরুদ্ধারে নজর বিএনপির নেতাদের

ইউসুফ আলী, জামালপুর

হারানো আসন পুনরুদ্ধারে নজর বিএনপির নেতাদের

ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা জামালপুর জেলায় ৫টি সংসদীয় আসন রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জেলায় বইছে ভোটের হাওয়া। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীর মধ্যে। দীর্ঘ দেড় দশক পর পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে স্বপ্নে বিভোর ভোটাররা।

১৯৭৮ সালে জেলায় উন্নীত হওয়ার পর থেকে এখানে আধিপত্য ছিল বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির। বিগত ১৫ বছর বাদ দিলে জেলার ৫টি আসনে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই সমহারে আসন পেয়ে আসছে। এবার নিজেদের হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে, নতুন করে স্বপ্ন বুনছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন ব্যতীত জেলার বাকি চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় নেতারা তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে, চালাচ্ছেন নানাভাবে লবিং। বিপরীতে ৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে স্বস্তিতে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ)

জামালপুরের উত্তরে ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়, নদ-নদী এবং চরাঞ্চলবেষ্টিত দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জÑএ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-১ আসন। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তিনবার ও বিএনপি একবার জয়লাভ করে। এ আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি মনে করা হলেও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদকে হারিয়ে বিএনপির এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলা জটিলতার কারণে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে আবারও দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সক্রিয় হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জামালপুর-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, তার ছেলে ব্যারিস্টার শাহাদাত বিন জামান শোভন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম মাঠে কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে এ তিনজন বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।

ইতোমধ্যে বিএনপির মিল্লাত ও শোভন ব্যাপকভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন নিশ্চিত করতে। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও দলকে সহযোগিতা ও নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তিনি। ভোটারদের মধ্যে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এ ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম বিএনপির মনোনয়ন পেতে এলাকায় সভা-সমাবেশ ছাড়াও কেন্দ্রে জোর লবিং চালাচ্ছেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি প্রতি সপ্তাহেই বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কর্মিসভা, পথসভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।

২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে বিএনপিসহ অন্যান্য দল। তবে এ আসনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি দলটি। সদ্যগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হক সাঈদী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদ শাসনামলে জামায়াত সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মানবিক উন্নয়ন, বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জের শিক্ষা আর অবকাঠামো উন্নয়ন, নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষের পুনর্বাসনসহ সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করব। আমরা চাষি, মজুর, ছাত্র, শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর)

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলবেষ্টিত ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী দুজন নেতা গণসংযোগ শুরু করেছেন। তাদের একজন ইসলামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে টানা ৫টি নির্বাচনে বিএনপির হয়ে অংশগ্রহণ করে ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অপরদিকে বিএনপির অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এএসএম আব্দুল হালিম।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী এ আসনে একক প্রার্থী। তিনি ভোটের মাঠে সরব উপস্থিতি জানান দিতে নিয়মিত জনসংযোগ করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মাওলানা সুলতান মাহমুদ সিরাজি গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করছেন। তিনি এই দলের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, আমি এ আসনে সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে এলাকার অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছিলাম। দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানেও ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে এই আসনে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে সভা-সমাবেশ, মিটিং-মিছিলসহ নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।

বিএনপির অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হালিম বলেন, আমি ১৭ বছর রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থেকে ১৪টি মিথ্যা মামলায় আসামি হয়েছি। তবুও কখনোই থেমে যাইনি। এখনো দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপি নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি জামালপুর-২ ইসলামপুর আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি প্রার্থী হতে ইচ্ছুক।

জামায়াত প্রার্থী ছামিউল হক ফারুকী বলেন, জনগণ এখন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ দেখতে চায়। তারা চায় ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ। তাছাড়া জনগণ সমন্বিত ও সুষম উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। এসব কারণে জনগণ এবার ইসলামি শক্তির বিজয় কামনা করে। এজন্য আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হব।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ)

এ আসনে গত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আটবার, বিএনপি দুবার, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ একবার ও জাতীয় পার্টি একবার জয়ী হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন—জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহসম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, প্রশিক্ষণবিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, কৃষক দলের সহসভাপতি দৌলতুজ্জামান আনছারী, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেনের ছেলে কর্নেল (অব.) রফিকুল হান্নান ও জেলা বিএনপির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন। ২০০১ সালে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মির্জা আজমের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। আসনটিতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অপরদিকে, এ আসনে প্রচার চালাচ্ছেন একক প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদী। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মাদারগঞ্জ উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল মিয়া, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম তুহিন, আল আমিন ও জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি লিটন মিয়া মাঠে সরব রয়েছেন। জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামসুদ্দিন, মেলান্দহ উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি মাওলানা বোরহান উদ্দিন, মেলান্দহ খেলাফত মসলিসের সভাপতি মুফতি রফিকুল ইসলাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় আমার নামে ১১টি মামলা হয়েছে। ৫ বার গ্রেপ্তার হয়েছি এবং ৮ মাসেরও অধিক সময় কারাবন্দি ছিলাম। শত নির্যাতনের মাঝেও নেতাকর্মীদের বুকে আগলে রেখেছি। মেলান্দহ-মাদারগঞ্জের নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। পাশাপাশি দলের প্রতি আনুগত্য, আত্মত্যাগ, নির্যাতন, মামলাসহ সবকিছু বিবেচনায় নীতিনির্ধারণী মহল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে বিশ্বাস করি। সে সঙ্গে আশা করি জনগণের বিপুল ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।

বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে অনেক গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে। তাদের উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিনের ব্যবস্থা করিয়েছি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মসূচিতে চাঙা রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছি। নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। আশা করছি এসব বিষয় মূল্যায়ন করে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

জামায়াত প্রার্থী মজিবুর রহমান আজাদী বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা দুর্নীতি, অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হলেও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা কোনো দুর্নীতি-অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়নি। যার ফলে দিন যতই যাচ্ছে, ততই জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা এবার অত্যন্ত সুসংগঠিত হয়ে মাঠে নামছি। আশা করি জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী)

জেলার ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত এই আসনটি। স্বাধীনতার পর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার বিএনপি এবং দুবার আওয়ামী লীগ মন্ত্রিত্ব পেয়েছে। বিএনপির ভেতরে মনোনয়ন প্রশ্নে মতবিরোধ না থাকায় এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন নির্ভার। এমন বাস্তবতায় সরিষাবাড়ী উপজেলায় রাজনীতির মাঠে এখন সরব বিএনপি নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা না হলেও বসে নেই জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার এ আসনে ১৯৭৯ সালে বিজয়ী হয়ে আইন ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯১ সালে বিজয়ী হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। এ সময় তিনি সরিষাবাড়ীতে ব্যাপক উন্নয়নকাজ করায় আসনটি বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত হয়। এবার তারই ভাতিজা জেলা বিএনপি সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। বিএনপির ভেতরে কোনো কোন্দল না থাকায় নির্বাচনে বৈতরণী পার হওয়ার বিষয়ে জেলায় সবচেয়ে বেশি নিরাপদে রয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এই আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন।

এ আসনে ইতোমধ্যেই এনসিপি সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আকবর সিদ্দীক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি মোখলেছুর রহমান গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে সরিষাবাড়ীর মানুষের আমানত রক্ষার দায়িত্ব নেব এবং সরিষাবাড়ীর সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করে যাব।

জামায়াত প্রার্থী আব্দুল আউয়াল বলেন, সরিষাবাড়ীতে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করে যুবকদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা হবে। দুস্থদের সরকারি ভাতা সুবিধাদি নিশ্চিত করা হবে। রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে এবং সরিষাবাড়ী উপজেলাকে মাদকমুক্ত করে গড়ে তোলা হবে।

জামালপুর-৫ (জামালপুর সদর)

জামালপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক এ আসন থেকে বিজয় লাভ করে স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এ আসনে বিএনপির তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অ্যাডহক কমিটির সদস্য এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি এ আসনে ১৯৯১ সালে বিজয়ী হন। দীর্ঘদিন এ আসন থেকে নির্বাচন করায় দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ আসনে অপর গুরুত্বপূর্ণ মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার। তিনি গ্রাম-গঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদান করে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ এবং ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জনসংযোগ করছেন। এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা শাখার সাবেক সভাপতি সৈয়দ ইউনুস আহম্মেদ এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনিও জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা শাখার সভাপতি আবু সায়েম মো. সা-আদাত উল করীম জামালপুর সদর আসন থেকে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারকাজ চালাচ্ছেন।

সাবেক উপমন্ত্রী সিরাজুল হক বলেন, আমি এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। জামালপুর সদরবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। প্রত্যেক ভোটারই আমাকে চেনেন, আমি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। দুর্নীতি করিনি, দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দিইনি।

মনোনয়নপ্রত্যাশী ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। দল মনোনয়ন দিলে আমি জামালপুর সদরকে উন্নত, সমৃদ্ধ, মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করব।

জামায়াত প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বলেন, জামালপুর সদরের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে, রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী করা হবে। চাঁদাবাজদের দমন করে মানুষ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন