চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সামনেই সহকারী প্রকৌশলীকে বেধড়ক পিটিয়েছেন সিবিএ নেতারা। নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডবও চালিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গত মঙ্গলবার দুপুর একটা ৪০ মিনিট থেকে দুইটা ৩০ মিনিটের মধ্যে নগরের আগ্রাবাদে বিদ্যুৎ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে বুধবার সামনে আসে।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং চারজনকে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ ভিত্তিতে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করা হয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে তাকে নিয়োগের জের ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিনকে জেরা করেন সিবিএ নেতারা।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী গাজী আইয়ুব, প্লান্ট অপারেটর হাফেজুর রহমান, লাইনম্যান নুরুননবী, ইলেকট্রিশিয়ান শফিকুল ইসলাম ও গাড়িচালক আইয়ুব আলী। তাদের সঙ্গে প্রায় ৪০ জনের একটি দল পিডিবির কম্পিউটার সেন্টারে অবৈধভাবে ঢোকে।
এরপর তারা নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিনের সঙ্গে উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডা করতে থাকেন। তাদের না জানিয়ে কেন ওই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে বারবার চাপ দেওয়া হয়। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন তারা।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিন আমার দেশকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে তারা খুব খারাপ ব্যবহার করছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাশের কক্ষে থাকা সহকারী প্রকৌশলী মাহাদি হাসান ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তিনি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার এবং আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে উচ্ছৃঙ্খল সিবিএ নেতার দলটি।’
তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা মাহাদিকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যায়। এরপর তার ওপর দলবদ্ধভাবে শারীরিক হামলা চালানো হয়। তাকে নির্বিচারে চড়-থাপ্পড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময় অন্য অফিস সহকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে বাধা না দিলে মাহাদি হাসানের প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়ও অফিসের বাইরে গিয়ে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। যারা হামলা করেছে, তারা বিএনপিপন্থি সিবিএ’র প্রভাবশালী নেতা বলে জানা গেছে।
এদিকে হামলার ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন গাজী আইয়ুব (অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী), হাফেজুর রহমান, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. নুরুন নবী ও মো. আইয়ুব। তাদের প্রধান কার্যালয়ের আদেশে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।
নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিন জানান, একজন নারী কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে এমন ঔদ্ধত্য দেখানো শুধু চাকরি বিধিরই লঙ্ঘন নয়, ফৌজদারি অপরাধও।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

