যশোরকে ‘সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর’ আখ্যা দিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী বলেছেন, এখানকার পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করা হবে, দেশীয় সংস্কৃতিমুখী করা হবে।
রোববার সকালে যশোর শিল্পকলা একাডেমি, ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি, টাউন ক্লাব পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করে গেছেন। এটি উপমহাদেশের প্রাচীনতম পাঠাগারগুলোর একটি। প্রধানমন্ত্রী এই পাঠাগারের উন্নয়ন, আধুনিকায়নসহ সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। সেই দায়িত্ববোধ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেকই আমার আজকের এই সফর।
তিনি আরও বলেন, যশোর ইনস্টিটিউট ও বর্তমান প্রজন্মকে পাঠাগারমুখী করতে আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা দ্রুতই বাস্তবায়ন করবো। বিগত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা আমাদের সংস্কৃতি চর্চায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। আমরা চাই আবার নতুন করে সেই সব পিছিয়ে পড়া কাজকে এগিয়ে নিতে।
মন্ত্রী জানান, পাঠাগারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বইয়ের সংগ্রহ বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন এবং তরুণদের আকৃষ্ট করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরির বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম গতিশীল করতে বরাদ্দ ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এ সময় যশোরের জেলা প্রশাসক ও যশোর ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যশোর ইনস্টিটিউটের একগুচ্ছ দাবি আমরা অফিশিয়ালি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আমরা ভালো কিছু আশা করছি। আমরা যশোরে সুন্দর, সুস্থ সংস্কৃতির বলয় তৈরি করার লক্ষ্যে এগোচ্ছি।
জেলা প্রশাসক জানান, পাঠাগারের পুরনো ভবন সংস্কার, পাঠকক্ষ সম্প্রসারণ, শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা কর্নার এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলে যশোরের সংস্কৃতি চর্চায় নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সকালে যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে পৌঁছে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কোর্স, নাটক, সংগীত ও চিত্রকলা বিভাগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির প্রাচীন ও দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, বই সংগ্রহ, পাঠক উপস্থিতি এবং অবকাঠামোগত অবস্থা দেখেন। টাউন ক্লাবে গিয়ে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি ছাড়া একটি জাতি এগোতে পারে না। যশোরের মাটি গুণিজন, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের জন্ম দিয়েছে। এই ধারাকে আবার সচল করতে হবে। তরুণদের বইয়ের কাছে, সংস্কৃতির কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর জেলা প্রশাসক ও যশোর ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোহাম্মদ আশেক হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সুজন সরকার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সালেক প্রমুখ।
তারা মন্ত্রীর কাছে দীর্ঘদিনের অবহেলিত শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম সংস্কার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু এবং পাঠাগারে আধুনিক রিডিং জোন স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আশ্বাস দেন, উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত যাচাই করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়া। এক্ষেত্রে যশোরকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই পাঠাগার শুধু বইয়ের ঘর না থাকুক, এটি হোক জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সংলাপের কেন্দ্র। শিল্পকলা একাডেমি হোক তরুণ শিল্পীদের মঞ্চ।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

