ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজার এলাকায় ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেনকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কিংবা ভোটার নন—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক সার ডিলারশিপ থাকারও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই এই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজার এলাকায় সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা ডিলার নিয়োগের স্থান ও যোগ্যতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও কৃষক আব্দুর রব বলেন, ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক লোকমান হোসেন এই ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচিত না হলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
লিটন নামের আরেক কৃষক দাবি করেন, ওই ব্যক্তির পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ রয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ডও তিনি সাংবাদিকদের কাছে দেন।
এ বিষয়ে দেউলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কামরুন্নেছা বলেন, লোকমান হোসেন এই এলাকার ভোটার বা বাসিন্দা নন। কীভাবে তিনি নতুন ডিলারশিপ পেলেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
যোগাযোগ করা হলে বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ কুমার মণ্ডল বলেন, ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন সেখানকার ভোটার বা বাসিন্দা নন—বিষয়টি আমার জানা ছিল। যাচাই-বাছাই কমিটির দায়িত্বে থাকা সদস্যদের আমি বিষয়টি সে সময় সতর্ক করেছিলাম। তবে তারা সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেননি।
এদিকে, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম খান জানান, ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা রাজনৈতিক সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত নীতিমালা মেনেই তালিকা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ৭ অক্টোবর কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষরিত এক আদেশে সারা দেশে ইউনিয়নভিত্তিক নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় কৃষকেরা আশা করছেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা হলে সার সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

