ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সারের ডিলারশিপের প্রাথমিক তালিকায় নাম আসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের মুখে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও সাবেক কাউন্সিলর হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল। তার নামে বা বেনামে কোনো সারের ডিলারশিপ নেই উল্লেখ করে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকায় জাহানপুর ইউনিয়নের ডিলারশিপের বিষয়ে নাম আসার পর তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের ডেকে এর কাগজপত্র ও পরিচালনার দায়িত্ব স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে জানান।
জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চরফ্যাশনের ২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ২২ জন সার ডিলারের বিপরীতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সুপারিশ করা একটি তালিকা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, জাহানপুর ইউনিয়নের নিয়োগ পাওয়া সার ডিলার ‘ফরাজি ট্রেডার্স’-এর নামের পাশে সুপারিশকারী হিসেবে তার নাম লেখা হয়েছে। এতে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। অহেতুক বিতর্ক এড়াতে এবং দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা যাতে এর সুফল পান, সে লক্ষ্যে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ডেকে লিখিতভাবে মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
তিনি আরও আহ্বান জানান, অন্যান্য ইউনিয়ন বা পৌরসভায় যাঁদের সুপারিশে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, তারাও স্থানীয় নেতাকর্মীদের নামে তা হস্তান্তর করে এই বিতর্কের অবসান ঘটাবেন।
উল্লেখ, চরফ্যাশন উপজেলার ২২টি সার ডিলারশিপ নিয়োগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেওয়া সুপারিশের একটি তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। তালিকায় বিএনপির নেতৃবৃন্দের তালিকায় বিতর্কিত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের স্বজনদের নাম থাকার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি ডিলারশিপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কৃষি সচিব বরবারে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

