দেশের অন্যতম বৃহত্তর ও বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির (মূলদল) দুই বছর কমিটি নেই ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ও পৌরসভায়। যার ফলে উপজেলায় দলীয় কার্যক্রম পালনে স্থবির হয়ে পড়েছে। কে বড় নেতা, কে ছোট নেতা এনিয়ে চলছে প্রদর্শনের মহড়া। পাশাপাশি সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ৪/৫ বছর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির মূল দলের কমিটি ২০২৪ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর এক নোটিশের মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও নতুন কমিটি কিংবা আহ্বায়ক কমিটিও দীর্ঘ দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত গঠন করা হয়নি। এতে সাবেক কমিটির সাবেক নেতা পরিচয় দিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে তারা। তবে মাঝে মধ্যে বাতাসে গুঞ্জন উঠে নতুন কমিটি হচ্ছে অমুক মাসে, অমুকে হচ্ছে সভাপতি ইত্যাদি ইত্যাদি। বাস্তবে দৃশ্যমান কিছুই হচ্ছে না।
এদিকে আহ্বায়ক কিংবা নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাব্য কোনো তারিখ ঘোষণা না থাকলেও সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা রয়েছে দারুণভাবে। পদপ্রত্যাশীদের অনেকে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে মাঝে মাঝে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে দেখাও করছেন।
এ ব্যাপারে ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন টিপু আমার দেশকে বলেন, “দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও শৃঙ্খলা আনতে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির কমিটি দরকার। আশা করছি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে সুদৃষ্টি দেবেন।”
উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘‘উপজেলা বিএনপির কমিটি নেই দুই বছর ধরে। কমিটি ছাড়াই আমরা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ভাইকে বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ ভোটে এমপি নির্বাচিত করেছি। নুরুল ইসলাম নয়ন ভাই, দলের জন্য নিবেদিত ও মানবিক গুণের অধিকারী দেখে আগামী দিনে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির কমিটি উপহার দেবেন, এমন প্রত্যাশা তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের।’’
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন মানবিক, সৎ ও সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন নেতাদের সমন্বয় উপজেলা বিএনপির কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা দিতে পারেন। সেই লক্ষে নাকি অনেক নেতাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চরফ্যাশন পৌরসভা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়েরুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘‘উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির কমিটি না থাকায় তৃণমূল দলীয় কাজে কিছুটা সমস্যা হয়। কমিটি গঠন হলে দল আরও সক্রিয় হবে।’’
বিএনপির সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন চরফ্যাশন উপজেলার ইউনিয়ন কমিটির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে আমার দেশকে জানান, তারা প্রতিদিন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন দলীয়ভাবে কিন্তু উপজেলা কমিটি না থাকায় কেউ দায়িত্ব নিয়ে সমাধানে এগিয়ে আসছে না। সাবেক কমিটির নেতারা একজন, আরেকজনের কথা বলেন। এক্ষেত্রে নতুন কমিটি প্রয়োজন। দলীয় কর্মসূচি সফল ও দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

