আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জেলা কমিটিবিহীন চলছে আড়াই বছর

বরগুনা বিএনপিতে হযবরল অবস্থা

এম হারুন-অর-রশিদ রিংকু, বরগুনা

বরগুনা বিএনপিতে হযবরল অবস্থা

বরগুনায় প্রায় আড়াই বছর ধরে কমিটি ছাড়াই চলছে জেলা বিএনপির কার্যক্রম। ফলে বিভিন্ন গ্রুপ আর উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে দলে। ভেঙে পড়েছে দলের চেইন অব কমান্ড।

যে যার মতো নিজস্ব বলয় তৈরি করে জেলায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ, হিংসা আর বিদ্বেষ। বরগুনার বিএনপিতে এমন করুণ হাল অতীতে কখনো দেখেনি তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের জুন মাসে মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাকে আহ্বায়ক ও তারিকুজ্জামান টিটুকে সদস্য সচিব করে বরগুনা জেলা বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির বিরুদ্ধে তখন বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার কমিটি গঠনে টাকা লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে মাত্র ১০ মাসের মাথায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার পর প্রায় আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও তা আর গঠন করা হয়নি। এ অবস্থায় অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে দল।

বর্তমানে বিএনপিতে কমপক্ষে চারটি গ্রুপ সক্রিয় আছে। গ্রুপিংয়ের কারণে ভেঙে পড়ে দলীয় শৃঙ্খলা। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি নামধারী কিছু নেতাকর্মী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। তাদের এহেন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয় মারাত্মকভাবে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফায়জুল মালেক সজিব আমার দেশকে বলেন, জেলা বিএনপিতে পদ পাওয়ার মতো যোগ্য ও ত্যাগী বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন। গ্রহণযোগ্যদের দিয়ে অচিরেই জেলা কমিটি গঠন করা উচিত।

জেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান জাহিদ মোল্লা আমার দেশকে বলেন, সংসারে অভিভাবক না থাকলে যেমন সেই সংসার এলোমেলো হয়ে যায়, তেমনি প্রায় ২৭ মাস যাবৎ জেলা কমিটি না থাকায় বিএনপিতে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বামনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ রানা আমার দেশকে বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে জুলাই মাসের মধ্যে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা দরকার এবং চলতি মাসের মধ্যেই একটি যোগ্যতম জেলা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা আমার দেশকে বলেন, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে বরগুনা জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন হাসান শাহিন আমার দেশকে বলেন, অনতিবিলম্বে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের মাধ্যমে বরগুনা জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা জরুরি।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফজলুল হক মাস্টার আমার দেশকে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও বিতর্কহীন নেতাদের দিয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ বা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম সফিকুজ্জামান মাহফুজ মনে করেন, ব্যক্তিগত সততা ভোটের মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন নেতাদের সমন্বয়ে অচিরেই বরগুনা জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে সভাপতি পদপ্রত্যাশী বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা আমার দেশকে বলেন, যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেনি, যারা সৎ থাকতে পেরেছে তাদের দিয়ে জেলা বিএনপির কমিটি করলে সেটিই গ্রহণযোগ্য কমিটি হবে।

বরগুনা জেলা বিএনপি গঠনের লক্ষ্যে এ বছরের ২২ জানুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয়সহ বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুকে দায়িত্ব দিয়েছে হাইকমান্ড। তিনি বলেন, বরগুনা জেলার নেতারা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করলে আগস্ট মাসের মধ্যে বরগুনা জেলা বিএনপির সম্মেলন করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল ইসলাম মনি আমার দেশকে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই বিতর্কমুক্ত, সৎ ও যোগ্য নেতাদের দিয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির কমিটি উপহার দিবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন