দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন নিয়ে ৭২০টি কুলের চারা রোপণ করলেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য খালেক সিকদার। কুলের চারাগুলো সতেজভাবে বেড়ে উঠছে। ধরছে ফলও। অনুকূল পরিবেশ থাকলে এবার শীতেই কুল বিক্রি করে প্রচুর অর্থ আয় করবে বলে দারুণ আশাবাদী তিনি। কুল ছাড়াও আম, কলা, সবজি বাগান ও ধান চাষাবাদ করে আসছেন খালেক সিকদার।
সম্প্রতি চরফ্যাশন উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ খালেক সিকদারকে ফরিদপুর ভ্রমণে পাঠান। সেখানে কুলের বাগান দেখে, কুল বাগান তৈরি করার আগ্রহ সৃষ্টি হয় তার মনে। নিজ গ্রামে ফিরে ৫০ শতাংশ জমিতে বল জাতের ৭২০টি কুলের চারা রোপণ করেন তিনি।

খালেক সিকদার জানান, গত বছর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ফরিদপুর সাহিদা, পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের বাড়ির পাশাপাশি বরই খামার দেখানো হয় তাকে। সেখানকার বরই খামার দেখে, আমি চিন্তা করলাম, আমার একটা জমি আছে, খালের পার্শ্ববর্তী বর্ষায় চাষাবাদ হয়। শুকনো মৌসুমে চাষাবাদ করা যায় না। সেখানে (কুল) বরই চাষাবাদ করবো। স্যারে (কৃষি কর্মকর্তা) আমাকে চারা দিয়ে সহায়তা করেছে। আমিও ফরিদপুর থেকে কিছু চারা কিনে এনেছিলাম।
খালেক সিকদার বলেন, চারা রোপণ করার আট মাসের মাথায় বরই গাছে ফলন আসছে। আমরা ভিডিওতে দেখি, একটা গাছে ৪/৫ মন বরই ফল ধরে। এক মন কুল বরই দাম ২ হাজার টাকা। যদি গাছ প্রতি এক মন বরই ধরে তাহলে ৭২০টি গাছে ১৪/১৫ লাখ টাকার বরই হওয়ার আশাবাদী তিনি।
প্রতিটি বরই চারা ২৫, ৩০ ও ১০০ শত টাকা ধরে কিনেছেন। এক এলাকায় একই দর চারার। ৫ থেকে ১০ কেজি গোবর সার (গরুর গোবর), দেড় ২শ গ্রাম টিএসপি, হালকা সাদা সার, ৫০ গ্রাম হিমোপি দেয়ার ৭/৮ দিন পর বেডে গাছ রোপণ করতে হয়। প্রতিদিন খামারে ৯/১০ জন শ্রমিক কাজ করেন।
তিনি বলেন, যে কেউ যেকোনো জমিতে বরই চাষাবাদ করতে পারবে। চরফ্যাশনে প্রচুর বরই ফলের চাহিদা রয়েছে। উৎপাদিত বরই এখানকার বাজারে বিক্রি করা যাবো। আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে কর্মরত কৃষি সহকারী শহিদুল হক এবং বড় স্যার (কৃষি কর্মকর্তা) রোকুনুজ্জামান আমাকে খামার করতে ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

