কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘প্যারট ফিশ’

কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘প্যারট ফিশ’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে বাবুল মাতুব্বরের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি প্যারট ফিশ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘তোতা মাছ’ বা ‘টিয়া মাছ’ নামেও পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের ফয়সাল ফিশ আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য আনা হয়। প্রায় ৭০০ গ্রাম ওজনের মাছটির মুখ ও ঠোঁট অবিকল টিয়া পাখির মতো হওয়ায় আড়তে সেটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে নিলামে মাছটি তিন হাজার টাকায় কিনে নেন ফয়সাল ফিশের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর।

জানা গেছে, চরমোন্তাজ এলাকার এফবি ভাই ভাই ট্রলারের মাঝি বাবুল মাতুব্বর ১৭ জন জেলেকে নিয়ে দুই দিন আগে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। জাল উত্তোলনের সময় ইলিশ, পোয়া ও অন্যান্য মাছের সঙ্গে বিরল এই প্যারট ফিশটিও ধরা পড়ে।

জেলে বাবুল মাতুব্বর বলেন, ‘রাতের দিকে জাল ফেলেছিলাম। পরে ইলিশ ও অন্য মাছের সঙ্গে এ মাছটিও উঠে আসে। এর আগে আমাদের জালে কখনো এমন মাছ ধরা পড়েনি। প্রথমবার দেখলাম।’

ফয়সাল ফিশের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর জানান, মাছটি ক্রয় করে বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিক্রির জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারট ফিশের মুখের গঠন টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো হওয়ায় এ নামকরণ করা হয়েছে। মাছটি নীল-সবুজ বা ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে এবং বাংলাদেশের কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে মাঝে মাঝে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এর বৈজ্ঞানিক নাম স্ক্যারাস গোব্বান।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশ এর সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, প্যারট ফিশ মূলত স্ক্যারিডি পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ। এদের শরীর অত্যন্ত রঙিন ও উজ্জ্বল। সাধারণত প্রবাল প্রাচীর এলাকায় বিচরণ করে। এদের দাঁত একসঙ্গে জোড়া লেগে পাখির ঠোঁটের মতো শক্ত চঞ্চু তৈরি করে, যা দিয়ে তারা প্রবাল ও পাথরের গা থেকে শৈবাল চেঁছে খায়।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, এটি ধোফার প্যারট ফিশ নামেও পরিচিত। এ ধরনের মাছ বাংলাদেশের জলসীমায় খুবই বিরল। আমাদের উপকূলে এ প্রজাতির মাছ সচরাচর দেখা যায় না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন