আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চিতলমারীতে পালকি: ফেলে আসা দিনের ঐতিহ্য

উপজেলা প্রতিনিধি, (চিতলমারী) বাগেরহাট

চিতলমারীতে পালকি: ফেলে আসা দিনের ঐতিহ্য
ছবি: আমার দেশ

বাগেরহাট জেলার চিতলমারীতে বরকে পালকিতে চড়ে কনে আনার একটি আকস্মিকতায় সাধারণ মানুষকে রীতিমতো অবাক করেছে। ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনবাহন পালকি এখন বিলুপ্ত প্রায়। পালকির মতো কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রাম-বাংলার হাজারো ঐতিহ্য। সেই স্মৃতিকে ধারণ করে পালকির এই আকস্মিকতা পথচারী এবং স্থানীয়দের নজর কেড়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে চিতলমারী সদর বাজারের সড়ক বেয়ে পালকিটি কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে যায়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় প্রিন্স মন্ডল বলেন, বর্তমান দেখা যায় না পালকিওয়ালাদের বিভিন্ন ঢং। দেখা যায় না, নূপুর পায়ে নাচ ও বিয়েবাড়িতে গান শুনতে আসা নারী-পুরুষের ভিড়। সেই সোনালি দিনগুলো আর ফিরে আসবে না।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন ধর্নাঢ্য শ্রেণির অনেকে মা-বাবার আশাপূরণের জন্য হেলিকপ্টরে চড়ে বিয়ে করেন। আবার মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন প্রায়ই আধুনিক যানবাহনে চড়ে বিয়ে বাড়িতে যান ।

৩০ থেকে ৪০ বছর পূর্বে বিয়ে করতে যাওয়া সব শ্রেণির বর কনের একমাত্র বাহন ছিল পালকি। পালকি ঘিরে কত হাসি-তামাশার গল্প আজও শোনা যায়।

উপজেলার আড়ুয়াবর্নী গ্রামের আনিস তরফদার, শিবপুরের শোভা শেখসহ অনেকে বলেন, আমরা ছোটবেলায় দেখেছি ৪ থেকে ৮ জন বাহক পালাক্রমে পালকি কাঁধে তুলে বর-কনে নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেত।

বর-কনের প্রায়ই রাতে বিবাহ হতো এবং গভীর রাতে পালকিতে চড়ে বর ও কনেকে দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিয়ে ছন্দে ছন্দে গান পরিবেশন করে গ্রামগঞ্জের রাস্তা পাড়ি দেওয়া হতো। অপর দিকে বরের বাড়িতে কুলোতে ধান-দূর্বা নিয়ে নববধূকে বরণ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন বরের মা ও বোনেরা। আজ সে সকল দৃশ্য বিলুপ্ত প্রায়।

চিতলমারীর পালকিতে চড়ে কনে আনার এই ঘটনা আবার স্মরণ করিয়ে দিল আমাদের ফেলে আসা পুরোনো দিনের ঐতিহ্য ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন