অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের মুখে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠির ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ি। ঐতিহ্যবাহী এই জমিদারবাড়ি রক্ষায় নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ।
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি জমিদারবাড়িটি সতেরো শতকের শেষের দিকে জানকী বল্লভ রায় চৌধুরী এ জমিদারির পত্তন করেন। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বপ্রেমীদের জন্য বাড়িটি একটি দর্শনীয় স্থান। বাড়িটি আজ কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ আর অযত্ন-অবহেলার কারণে এ অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এখন ধ্বংসের মুখে।
কলসকাঠি জমিদারবাড়ির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জানকী বল্লভ রায়ের নাম। ইতিহাসবিদদের মতে, জানকী বল্লভ রায় ছিলেন বিক্রমপুরের বিখ্যাত জমিদার বংশের উত্তরসূরি। তিনি তার পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ করে এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন এবং জমিদারি প্রথা চালু করেন। এরপর ধীরে ধীরে কলসকাঠি একটি সমৃদ্ধশালী জনপদে পরিণত হয়।
কলসকাঠিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৩টি জমিদার পরিবার বাস করত। তাদের নির্মিত প্রতিটি ভবনই কারুকার্যখচিত এবং শৈল্পিক। এখানে ১১টি ছোট-বড় দালান এবং তিনটি মন্দির রয়েছে। ইট, সুরকি এবং পোড়ামাটির অপূর্ব কারুকার্যে তৎকালীন আভিজাত্যের ছাপ লক্ষ করা যায়। এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে কারুকার্যময় মঠ ও মন্দির, অন্ধকার কুঠুরি ও সুড়ঙ্গ। জনশ্রুতি আছে, নিরাপত্তার জন্য জমিদারবাড়ির ভেতরে সুড়ঙ্গপথ ও গুপ্তকক্ষ ছিল। ভবনের দেয়ালে লতাপাতা এবং দেব-দেবীর নিপুণ খোদাই করা নকশা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
এক সময় যে বাড়িগুলো ছিল ঐশ্বর্য আর জৌলুসের প্রতীক, আজ সেগুলোর পলেস্তারা খসে পড়ছে। অধিকাংশ ভবনই লতাগুল্মে ঢাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগের অভাবে এ ঐতিহাসিক স্থানটি বিলুপ্ত হতে চলেছে। অনেক মূল্যবান শিলালিপি ও স্থাপত্যের অংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। উত্তরসূরির অভাবে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আজ ধুঁকছে কলসকাঠির ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ি। তাই এ পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে জমিদারবাড়ি রক্ষায় এখনই প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের জোরালো হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

