দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল ও অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে হবে: চিফ হুইপ

দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল ও অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে হবে: চিফ হুইপ

সাংবাদিকদের হাত ধরেই বরগুনা জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধিত হবে উল্লেখ করে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, আমরা বরগুনাকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই। আগামী দুই মাসের মধ্যে যেকোনো মূল্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল এবং অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বিকেলে বরগুনা জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বরগুনার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, বরগুনার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বরগুনার বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবাই যাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মা শিক্ষিত হলে সন্তানও শিক্ষিত হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে গৃহীত ঐতিহাসিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে তিনি মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা চালানো হয়ে থাকতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বিগত সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেন।

বরগুনার স্বাস্থ্যসেবার খাতের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের অধিকার সমান। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব করা যাবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গাপূজার ছুটির সময় বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, বরগুনায় চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া এবং যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রতি বিরোধী দলের এক ব্যক্তিকে আঘাত করার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।

রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনায় তিনি বলেন, কেবল লংমার্চ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়; বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান করতে হবে। বরগুনার উন্নয়নে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে তিনি সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় বরগুনা জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সম্ভাবনা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের নানা দিক তুলে ধরে মতামত ব্যক্ত করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন