বরিশালে মাদকের আসর থেকে পুলিশ ও নারীসহ চারজন আটক

বরিশালে মাদকের আসর থেকে পুলিশ ও নারীসহ চারজন আটক

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুরে মিরাজুল ইসলামের বাসায় মাদকের আসর থেকে পুলিশ ও নারীসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে এ অভিযান চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় পাঁচগাঁও গ্রামে কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিরাজুল ইসলামের টিনশেড বাসাটি ঘিরে ফেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা। এ সময় তারা ওই বাসায় অবস্থানরতদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেন। ডিএনসি কর্মীরা চারজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, বরিশাল বিমানবন্দর থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, নাহিদ হাসান এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০) নামের এক নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছে মাদকের বড় কোনো চালান না পাওয়া গেলেও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মিরাজুল ইসলামের দলীয় কোনো পদপদবি নেই। তবে তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিলেন এবং মাদক সরবরাহ করতেন। কথিত ওই নেতার সঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের এএসআই দেলোয়ার হোসেনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রায় দিনই মিরাজের বাসায় রাত কাটাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এএসআই দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে স্থানীয় নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোররাতে পাঁচগাঁও গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজের বাসাটি ঘিরে রাখেন এবং ভেতরের সকলকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তখন তারা ডিএনসির কর্মীদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সূর্যের আলো ফুটতেই পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে লাফিয়ে কাঁদামাটিতে পড়েন। তখন তাকে মাদকদ্রব্যের কর্মীরা ধরতে গেলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেসহ চারজনকে আটক করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটক চারজনের মধ্যে এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুলসহ বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে ডিএনসির উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, বিমানবন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক নিজে এসে ছিলেন এবং তিনি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আটক এএসআইকে তার জিম্মায় নিয়ে গেছেন। বাকিদের আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন