জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বরিশালে অসন্তোষ, দ্রুত কমানোর দাবি

নিকুঞ্জ বালা পলাশ, বরিশাল

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বরিশালে অসন্তোষ, দ্রুত কমানোর দাবি

পেট্রোল-ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় বরিশালে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার রাতে আকস্মিক তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান নেটিজেনরা। বিশেষ করে বিএনপি সরকারের আকস্মিক এমন সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষসহ বাইকাররা। সব মহলেরই দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত দাম কমানো হোক।

গতকাল সোমবার সকাল থেকেই বরিশালের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন এবং গণপরিবহনগুলোতে ক্রেতা ও চালকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। দূরপাল্লার বাস ও অভ্যন্তরীণ রুটের থ্রি-হুইলারে বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা চলছে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি সরকার গঠনের পর তৃতীয় ধাপে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে হঠকারী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মী কিংবা সমর্থকরাই নয়, সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বোধ করছেন। এভাবে দাম বাড়ানোয় জনসাধারণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

গত রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়। নতুন নির্ধারণ করা দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। এর আগে সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দফা দাম বাড়ানোর পর ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছিল।

সরকারের ঘোষিত নতুন দামে গত রোববার রাত ১২টার পর থেকে অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তেল বিক্রি শুরু হয়। তবে আগের দামে তেল কিনতে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বরিশালের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছিল বাইকারদের উপচে পড়া ভিড়।

এদিকে আকস্মিক তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘বিভিন্ন দাবিতে বিরোধীদলীয় জোট, জামাতসহ অন্যান্য দলগুলো লংমার্চসহ নানান কর্মসূচি পালন করছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঘি ঢালার মতো।’ কেউ কেউ লিখেছেনÑ‘নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো সরকারের হটকারী সিদ্ধান্ত।’

এদিকে আকস্মিক তেলের দাম বাড়ানোয় চরম নাখোশ পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিক ও বাইকাররা। এ বিষয়ে বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিএমএফ পরিবহনের একাংশের মালিক জিয়াউল হক আমার দেশকে জানান, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।

সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, তেলের দাম বাড়লে ভাড়াও বাড়ানো হয়। কিন্তু এখন আর ভাড়াও বাড়াতে পারছেন না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (দক্ষিণ) আবুল কালাম শাহীন আমার দেশকে বলেন, আকস্মিক তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিতে পারেননি। দেশের মানুষ আন্তর্জাতিক বাজারের দর জানতে চায় না, তারা সহজ মূল্যে তেল চায়। তার মতে, আকস্মিক তেলের দাম বাড়ানোর ফলে বিরোধীরা সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ পেল।

এ বিষয়ে বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ও ড্যাব নেতা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আকস্মিক তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তেলের দাম যথাসাধ্য কমিয়ে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া দরকার। কীভাবে দাম কমাবে সেটা সরকার দেখবে। দাম না কমালে জিনিসপত্রের দাম হুহু করে বাড়বে। এতে সামাজিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন