আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আমরা এখন কার কাছে, কোথায় থাকবো? সোহাগের ছেলে

এম হারুন-অর-রশিদ রিংকু, বরগুনা

আমরা এখন কার কাছে, কোথায় থাকবো? সোহাগের ছেলে

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পাথর মেরে ও কুপিয়ে হত্যা করে লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় নানাবাড়ি বরগুনার সদর উপজেলার রায়ভোগ গ্রামে মায়ের কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকালে রায়ভোগ গ্রামে সোহাগের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা আমার দেশকে জানান, ছোটোবেলা থেকেই ঢাকায় বসবাস ছিলো সোহাগের। গ্রাম ও এলাকার মানুষের সঙ্গে তার গভীর যোগাযোগ ছিল। ঈদ কিংবা বিশেষ উপলক্ষ্যে গ্রামে এলেই গরিব-দুখিদের পাশে দাঁড়াতেন। অসুস্থদের চিকিৎসায় সাহায্য এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করতেন। সম্প্রতি নিজ গ্রামে নির্মাণাধীন মসজিদের জন্য এক লাখ টাকা দান করেছেন।

সোহাগের ছেলে সোহান আমার দেশকে বলেন, আমার বাবাকে ওরা এভাবে মেরে ফেলল, আমরা এখন কোথায় যাবো? কার কাছে থাকবো? কে আমাদের ভরণপোষণ দেবে? আমার বাবা মানুষজনকে সাহায্য করতো, এখন আমাদের অন্যের সাহায্য নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।

সোহাগের মেয়ে সোহানা আমার দেশকে বলেন, আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর কারো বাবা যেন এভাবে নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে প্রাণ না হারান। সেই নিশ্চয়তা রাষ্ট্রের কাছে চাই। ওরা শুধু বাবাকেই হত্যা করেনি আমাদের গোটা পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহাগের বাবা আইউব আলীর বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া গ্রামে। সোহাগের মাত্র সাতমাস বয়সে বজ্রপাতে আইউব আলীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে মা আলেয়া বেগম তাদের নিয়ে চলে আসেন ঢাকায়। সংসারে ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সোহাগ সবার ছোটো। ঢাকার মিটফোর্ডে মেসার্স সোহানা মেটাল নামের একটি দোকান ছিল। স্ত্রী লাকি বেগম (৩০), মেয়ে সোহানা (১৪) ও ছেলে সোহানকে (১০) নিয়ে কেরানিগঞ্জ মডেল টাউনে বসবাস করতেন।

সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম আমার দেশকে জানান, অনেক দিন ধরে মিটফোর্ড টিটু, রনি কাইউম, ছোট মনির এবং লম্বা মনিরসহ কয়েজজন সন্ত্রাসী সোহাগের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ার কারণে বুধবার বিকেলে সোহাগের দোকান মেসার্স সোহানা মেটালে তালা লাগিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

সোহাগের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বরগুনায়। এলাকাবাসীর মতে, সোহাগ শুধু একজন ব্যবসায়ী নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও পরিচিত ছিলো। তার এমন নির্মম মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। সোহাগের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নারকীয় এ নৃশংসতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তাদের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন