কর্মঘণ্টায় হিজলা ইউএনও কার্যালয়ে তালা, নেই কর্মকর্তা-কর্মচারী

কর্মঘণ্টায় হিজলা ইউএনও কার্যালয়ে তালা, নেই কর্মকর্তা-কর্মচারী

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বরিশালের হিজলা উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে ঝুলন্ত তালা দেখা গেছে। সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সে সময়ে সেখানে কোনো সেবাগ্রহীতারও দেখা মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এমন অব্যবস্থাপনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বরিশাল জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোববার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ ওই চত্বরের প্রায় সব কর্মকর্তার কক্ষের সামনে বড় বড় তালা ঝুলছে। এ সময় কার্যালয়ে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের কর্মস্থল ত্যাগ করে চলে যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার সকালে সরকারি কাজে বরিশাল জেলা শহরের একটি সভায় অংশ নিতে যান। এই কারণে তার কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। তবে তার অনুপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তার অধিকাংশই কর্মস্থলে আসেননি; যারা এসেছিলেন, তারাও নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই অফিস বন্ধ করে চলে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হিজলার প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাসময়ে আসেন না এবং নিয়ম ভেঙে আগেই অফিস বন্ধ করে চলে যান।

এদিকে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদারের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে কর্মঘণ্টার মধ্যে তার কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অফিস সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি মিটিংয়ে অংশ নিতে তিনি জেলা সদরে এসেছিলেন।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বলেন, " বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

অন্যদিকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ জানান, অফিস চলাকালীন সময়ে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় কেন তালাবদ্ধ ছিল, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন