বরগুনায় একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে তিনটি উপজেলার কার্যক্রম। জানা গেছে, বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার টিপু সুলতানকে তালতলী উপজেলার পাশাপাশি আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । একাধারে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনটি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার পদটি ১৫ বছরেরও অধিক সময় পর্যন্ত শূন্য রয়েছে। তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার টিপু সুলতান আমার দেশকে জানান, ‘আমার একার পক্ষে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করা খুবই কষ্টকর। সপ্তাহের পাঁচদিন তিনি তালতলীতে অফিস করে থাকেন।
জরুরি কোনো কাজের ডাক পড়লে কেবলমাত্র তখনই তিনি পাথরঘাটা ও আমতলী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অল্প সময়ের জন্য যান । তিনি আরো জানান, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে ডিগ্রি পরীক্ষা পর্যন্ত সব পরীক্ষায় আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলায় পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একজন করে একাডেমিক সুপারভাইজার রয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অনেকগুলো কাজ রয়েছে, যা একাডেমিক সুপারভাইজারের পক্ষে সম্পাদন করা সম্ভব নয়।
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার সেলিম মাহমুদ বলেন, আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীর্ঘ এক বছর পর্যন্ত না থাকায়, স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষা অফিসার থাকলে অনেক কাজ তাকে দিয়ে করা যেত। এছাড়াও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদটিও এক বছর পর্যন্ত শূন্য রয়েছে। অফিশিয়াল কাজকর্ম অনেক সময় বাহির থেকে করতে হয়।
বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট সেলিম ভূঁইয়া আমতলী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন আমার দেশকে জানান, ‘দীর্ঘ এক বছর পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার না থাকায়, স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক, কর্মচারীদের বিভিন্ন কাজে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

