নলছিটির বাজারে সয়লাব জাটকা ইলিশ, নজরদারির দাবি স্থানীয়দের

নলছিটির বাজারে সয়লাব জাটকা ইলিশ, নজরদারির দাবি স্থানীয়দের

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মাছের বাজার ও শহরের ফলপট্টি এলাকা এখন জাটকা ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ছোট আকারের এই ইলিশ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ভোরে বিভিন্ন বাজার, ফেরিঘাট এবং বিকেলে শহরের ফলপট্টি মোড়ে বিপুল পরিমাণ জাটকা বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইলিশ সংরক্ষণের স্বার্থে সরকার ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের কম আকারের ইলিশকে জাটকা ঘোষণা করে আহরণ, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। তার পরও নলছিটিসহ আশপাশের এলাকায় জাটকা ধরা ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নদী থেকে ছোট জালে জাটকা ধরে সরাসরি বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। কেজিপ্রতি দাম ৬০০-১০০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। বড় ইলিশের সরবরাহ কম ও উঠলেও দাম কেজি প্রতি ২৫০০-৩০০০ টাকা থাকায় অনেক ক্রেতা সস্তায় জাটকা কিনছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, “বড় মাছ না আসায় জাটকাই চলছে।”

মৎস্য বিভাগ ও পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলছেন, জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং রপ্তানির অন্যতম প্রধান পণ্য। জাটকা বাঁচলেই ইলিশ বাঁচবে—এই স্লোগান সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নলছিটি উপজেলা প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হবে। ইতোপূর্বে এ অঞ্চলে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে জাটকা জব্দ ও জরিমানা আদায়ের খবরও পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত নজরদারি না থাকলে বাজার থেকে জাটকা সরানো সম্ভব নয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের পরামর্শ—জাটকা কিনবেন না, বিক্রি করবেন না। ছোট ইলিশকে বড় হতে দিন, তবেই ভবিষ্যতে ইলিশের বাজার ভরপুর থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন