শ্রীমন্ত নদীর ওপর সেতুর গাইড ওয়ালে ধস

শ্রীমন্ত নদীর ওপর সেতুর গাইড ওয়ালে ধস

হস্তান্তরের আগেই মির্জাগঞ্জে সাড়ে ছয় কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

বিজ্ঞাপন

মো. শামসুল হক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রীমন্ত নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাঁঠালতলী ও রামপুর সেতুর সংযোগ সড়কের গাইড ওয়ালে ফাটল ধরে ভেঙে গেছে। ভাঙা অংশ মেরামত না করে বালুর বস্তা দিয়ে কাজ চলমান রেখেছেন ঠিকাদার। ফলে সংযোগ সড়কের ওপরে দেওয়া বালুভর্তি বস্তা ও মাটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাইড ওয়ালের খুঁটি ও বিম নির্মাণে ইট, বালু ও সিমেন্ট সঠিক অনুপাতে ব্যবহার না করায় এ ফাটল ধরেছে। স্থানীয়রা বাধা দিলেও ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরা কোনো কর্ণপাত করছেন না।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। যৌথভাবে কাজটি নির্মাণের দায়িত্ব পান বরিশাল এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। সেতুটি নির্মাণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ৭৬ টাকা।

জানা গেছে, কাঁঠালতলী-রামপুর সেতুটি জনগুরুত্বপূর্ণ। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সেতুটি। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ সেতু পারাপার হয়। সেতুর তদারকির দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সেতুর নদীর ওপরের অংশের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে, যা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার অভিযোগ করে আমার দেশকে বলেন, ছয় বছরেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। বর্তমানে সংযোগ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। সংযোগ সড়কের নিচের গাইড ওয়াল ও খুঁটি পাটের বস্তার বালুর চাপে ফাটল ধরে ভেঙে গেছে। ভাঙা অংশকে টিকিয়ে রাখতে যেনতেনভাবে বালুর বস্তা দিয়ে ঠেস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভেঙে যাওয়া গাইড ওয়াল ও খুঁটির কোনো মেরামত না করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার।

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে খুঁটি ও বিম নির্মাণ করা হয়েছে। গাড়িতে এনে গাইড ওয়ালের খুঁটিগুলো মাটিতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে ঢালাই ভেঙে রড বের হতে দেখা গেছে। সেগুলোই মাটির নিচে ঢুকানো হয়েছে। সেতুর দুপারে সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কত হবে—জিজ্ঞেস করলেও তারা সঠিক তথ্য দিচ্ছে না; নয়-ছয় করে কাজ করছে।

অটো রিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, পাটের বস্তায় বালু ও সিমেন্ট সঠিকভাবে মিক্সার না করে বস্তা ভরে দুপাশে দেওয়া হচ্ছে।

সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের প্রতিনিধি আব্দুল কাদের আমার দেশকে বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ ঠিকাদারের কাছ থেকে সাব-কনট্রাক্টে এনে আমি বাস্তবায়ন করছি। সংযোগ সড়কের জায়গাটা অনেক উঁচু, যে কারণে বালুর বস্তা ও মাটির চাপে গাইড ওয়াল ও খুঁটি ভেঙে গেছে। পাশে বস্তা দিয়ে ঠেস দেওয়া হয়েছে, ফলে কোনো সমস্যা হবে না।

গাইড ওয়াল ও পোস্ট ফাটল ধরে ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘আমি এখানে কয়েক দিন আগে যোগদান করেছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন