সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে টানা অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পিরোজপুরের জিয়ানগর থানার সার্টিফিকেট পেশকার মো. আজগর আলীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪-এর উপবিধি ৩ (১)(গ) অনুযায়ী বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদের সুপারিশের ভিত্তিতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করেন। বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের জিয়ানগর থানার সার্টিফিকেট পেশকার মো. আজগর আলীর বিরুদ্ধে চান্দিনা ভিটির ইজারা (লিজ) বাবদ গৃহীত টাকা ডিসিআর প্রদান না করে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালে এ নিয়ে প্রথম বিভাগীয় মামলা করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে চান্দিনা ভিটির ডিসিআর বাবদ আদায়কৃত ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া এবং অনুমতি ছাড়া টানা ২১ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে গত ২৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে পুনরায় বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অনুপস্থিতির পর কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ জমা দিতে না পারার বিষয়টিও তদন্তে প্রমাণিত হয়।
অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে অপসারণের সুপারিশ করেন। জেলা প্রশাসন সেই অনুযায়ী অপসারণের আদেশ জারি করে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না। যারা অনিয়ম ও অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতসহ বিভিন্ন দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

