অসহায় বাবার আর্তনাদ- ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত আমার মেয়েকে বাঁচান

উপজেলা প্রতিনিধি, তজুমদ্দিন (ভোলা)

অসহায় বাবার আর্তনাদ- ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত আমার মেয়েকে বাঁচান
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু তাসফিয়া । ছবি: আমার দেশ

'বাবা আমি বাঁচতে চাই। আমারে বাঁচাও, আমি পড়া লেখা করে ডাক্তার হইতাম চাই'' অসহনীয় ব্যাথা সহ্য করে বারবার এভাবেই বাবার কাছে বেঁচে থাকার আকুতি জানান, ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পাঁচ বছর বয়সী শিশু তাসফিয়া। যে বয়সে স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা ছিলো সে বয়সে মরনঘাতী ক্যান্সার দানা বাঁধে শিশু তাসফিয়ার শরীরে।

বাবা-মায়ের চোঁখের সামনেই তাদের ছোট্ট সোনামণির জীবন প্রদীপ এখন জ্বলছে নিভু নিভু করে। তারাও চেষ্টার কোনো কমতি রাখেন নি। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে হারিয়েছেন শেষ সম্বল,জমি আর গোয়ালের গরু। অন্যদিকে ঋণের বোঝা ও বাড়তে চলেছে। তবুও প্রিয় সন্তানকে শত প্রাণের বিনিময়ে হলেও কোলে ফেরানোর তীব্র সংগ্রাম করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। মেয়ের এমন পরিস্থিতিতে শোকে স্তব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

ভোলার তজুমদ্দিনের গোলকপুর গ্রামের চা দোকানদার আইয়ুব মোল্লা তার মেয়ে তাসফিয়াকে বাঁচাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে এখন পাগলপ্রায়। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিজের শেষ সম্বল গোয়ালের গরু আর জমিটুকু বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা।

তাসফিয়ার পারিবারিক ও ডাক্তারী রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু তাসফিয়ার বোনমেরু ট্রান্সফার করার প্রয়োজন। আর এজন্য লাগবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। একদিকে সন্তানের চিকিৎসার বিপুল অর্থ,অন্যদিকে ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়তে থাকায় চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

মঙ্গলবার তাসফিয়ার মা চম্পা বেগম আমার দেশ-কে জানান,এখন আর কোনো টাকা নেই আমাদের কাছে। কিভাবে তাসফিয়ার চিকিৎসা চালাবো বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,তার চিৎকারে আমরা কেউই রাতে ঘুমাতে পারি না।

তাসফিয়ার বাবা জানান, চার বছর বয়সে ঢাকার শিশু হাসপাতালে তার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। এখন তার বয়স পাঁচ বছর আট মাস। সবকিছু বিক্রি করে আজ প্রায় বিশ মাস ধরে আমরা তার চিকিৎসা চালিয়ে আসছি। ডাক্তার বলেছে বোনমেরু ট্রান্সপার করলে তাসফিয়া সুস্থ হয়ে উঠবে। তিনি সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

প্রতিবেশী ও স্থানীয় সমাজসেবক বাচ্চু মিয়া বলেন, মেয়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে সব হারিয়ে বর্তমানে সাত লাখ টাকার মতো দেনা হয়ে গিয়েছেন আইয়ুব মোল্লা। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে শিশু তাসফিয়ার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ভোলা-৩, তজুমদ্দিন-লালমোহন আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদ এর স্পিকার এবং সরকারের সহায়তা কামনা করেন স্থানীয়রা।

তজুমদ্দিন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে বিষয়টি আমরা দেখব। সাধারণত আমরা ছয় ধরণের জটিল রোগের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ হাজার টাকার সহায়তার প্রস্তাব জেলা অফিসে পাঠাতে পারি।

আগ্রহী ব্যক্তিরা শিশু তাসফিয়াকে সাহায্য পাঠানোর জন্য তার বাবার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। মোবাইল নম্বর : ০১৭১৫৯২০৭৭৫ (নগদ-বিকাশ)

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...